বিশেষ সংবাদদাতা।।
ভিওয়াইপি ব্যবসা ও মধ্যপ্রাচ্যে মানবপাচার করাই ছিল তার মুল আয়ের উৎস। সেখান থেকে ফুলেফেপে দেশে ফিরে নানাভাবে বরিশাল নগরে একটি অবস্থান দখলের চেস্টা করেন। এজন্য মোক্ষম সুযোগ হিসেবে ব্যবহার করেছিলেন রাজনীতি আর গণমাধ্যমকে। তিনি হলেন বহুরুপী চরিত্রের অধিকারী এস এম জাকির হোসেন। নিষিদ্ধ ঘোষিত বরিশাল মহানগর আ’লীগের সদস্য জাকির এখন গণমাধ্যমের গডফাদার। আওয়ামী লীগের দক্ষিণাঞ্চলের গডফাদার খ্যাত আবুল হাসানাত আব্দুল্লাহর এই ঘনিষ্ঠ সহচর বরিশালে নিষিদ্ধ ঘোষিত দলটির বর্তমান তিনি পৃষ্ঠপোষক। ২৪’র জুলাই আন্দোলনে একাধিক হত্যা মামলার আসামী এস এম জাকির অবৈধ টাকার প্রভাবে ধরা ছেয়ার বাহিরেই রয়ে গেছেন। গণআন্দোলনে একাধিক সংঘর্ষে অস্ত্র সরবরাহ করে বিএনপি, জামায়াত এবং জুলাই যোদ্ধাদের উপর হামলার অন্যতম হোতা এস এম জাকির আওয়ামী লীগের অস্থায়ী কার্যালয় বানিয়েছেন অবৈধ ইউরো ক্যাফে অবৈধ ইউরোটেল কনভেনশন হল। যেভাবে জাকিরের উত্থান: নগরের মুন্সি গ্যারেজে ফটোকপির দোকানদার থেকে ভিওয়াইপি ব্যবসা ও মধ্যপ্রাচ্যে মানবপাচার, অবৈধ
ক্যাফে, আওয়ামী লীগের প্রভাব খাটিয়ে ইন্টারনেট ব্যবসা কুক্ষিগত করেছে এস এম জাকির। এর নেপথ্যে ১৭ বছর আওয়ামীলীগের নাম ভাঙিয়ে এবং হাসানাত আব্দুল্লাহর ছত্রছায়ায় থেকে পাহাড়সম সম্পদ গড়ে তুলেছেন। কিন্তু সম্মান কুড়াতে এর মাঝে পেশাদার সাংবাদিকদের সঙ্গে সখ্য গড়ে এই নগরের একটি আঞ্চলিক দৈনিকের উপদেস্টা হয়েছিলেন এস এম জাকির হোসেন। কিছুদিন পরে সেই প্রতিষ্ঠানের সাংবাদিকদের সঙ্গে গাদ্দারি করে জাকির দখল করেন আঞ্চলিক এ দৈনিকটি। সাংবাদিকতায় কোন অভিজ্ঞতা ও যোগ্যতা না থাকা সত্ত্বেও তিনি ধীরে ধীরে হয়ে যান ভুয়া সাংবাদিক নেতা। গণমাধ্যমে তার এই উত্থানে বার বার হোচট খেয়েছেন পেশাদার সাংবাদিকরা। বহু সাংবাদিকের বিরুদ্ধে মামলা করা, গণমাধ্যম থেকে উৎখাত করা, পত্রিকা দখল করা এবং পেশাদার সাংবাদিকদের নানা কুটকৌশলে হেনস্থা করাই এস এম জাকিরের প্রধান কাজ। আর এই
গণমাধ্যমের সুযোগটা কাজে লাগিয়ে নানাভাবে গত ১৭ বছর ব্যবহার করেছে আ’লীগ এবং দেশ ছেড়ে পালিয়ে যাওয়া ফ্যাসিস্ট শেখ হাসিনার ফুফাতো ভাই আবুল হাসনাত আব্দুল্লাহকে। বরিশালে জুলাই আন্দোলনে জাকিরের নেতৃত্বে সহিংসতা: জানা গেছে, গত ৫ আগস্টের আগে বরিশাল যখন আন্দোলনে উত্তাল ছিল তখন এই নগরের ছাত্র আন্দোলন ঠেকাতে অস্ত্র এবং অর্থের যোগান দিয়েছিল এস এম জাকির। নগরের নথুল্লাবাদ,চৌমাথা,নবগ্রাম সড়কে সংঘর্ষে নেতৃত্ব দিয়েছেন এই জাকির হোসেন। এজন্য জুলাই যোদ্ধাদের সনাক্ত করতে ব্যবহার হতো তার আর এক অবৈধ ব্যবসা প্রতিষ্ঠান ইন্টারনেটের মাধ্যমে তথ্যপ্রযুক্তির ব্যবহার করা ‘ইউরোটেল বিডি’।নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক বরিশাল জেলা এনসিপি’র এক শীর্ষ নেতা এ প্রতিনিধিকে জানান,”বৈষম্য বিরোধী ছাত্র আন্দোলনে জাকির বরিশাল যুবলীগ ও ছাএলীগ নেতা- কর্মীদের ২০ লক্ষাধিক টাকা ও বিপুল পরিমাণ অস্ত্র যোগান দিয়েছেন”।তৎকালীন সময়ে আওয়ামী ক্যাডার জাকির এর এই সন্ত্রাসী কর্মকান্ড টের পেয়ে ৫ আগস্ট তার ব্যবসা প্রতিষ্ঠান ইউরো ক্যাফে ভাংচুর করে ছাত্র-জনতা। ঐতিহ্যবাহী বেলসপার্ক সংলগ্ন অফিসার্স ক্লাব দখল করে গড়ে ওঠা এই ইউরো ক্যাফেতে ৫ আগস্টের আগে ছাত্রলীগ-
যুবলীগের ঘাটি গড়ে তোলা হয়েছিল। উল্লেখ্য প্লান বহির্ভূত ভবন করা ইউরো ক্যাফে বন্ধে সিটি করপোরেশন একাধিক নোটিশ দিয়েছে। এস, এম. জাকির হোসেনের বিরুদ্ধে যত মামলা: যে সকল মামলার ১নং আসামী এস. এম. জাকির হোসেন (৪০), পিতা মৃত নেহাল হোসেন, ঠিকানা: নেহাল মঞ্জিল, কলেজ রোড, ২০ নং ওয়ার্ড, বিসিসি, বরিশাল। ১. কাউনিয়া থানার মামলা নং ০৪, তারিখ ০৮/০৯/২০২০ খ্রি.: দণ্ডবিধি আইনের ৩২৩/৩২৬/৩০৭/৫০৬(২)/৩৪ ধারা। ২. বরিশাল মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালত, সি.আর. কেস নং ১০৯/২০২১ (কোতয়ালী), তারিখ: ০৪/০৪/২০২১; দণ্ডবিধি আইনের ৩৮৫/৩৮৭/৫০০ ধারা। বাদী: মোঃ আল আমিন গাজী (২৬), পিতা: মোঃ হায়দার গাজী, বান্দ রোড, রাজ্জাক স্মৃতি কলোনী, কোতয়ালী, বরিশাল। বরিশাল নিউজ২৪ ডট কম-এর প্রকাশক ও সম্পাদক। ৩. বরিশাল মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালত, এম.পি. মামলা নং ১৫৯/২০১৪; দণ্ডবিধি আইনের
১৩৪/৩২৩/৩৮৫/৩৮৬/৩৮৭/৩৭৯/৫০৬(২) ধারা। ৪. বিঞ্জ সাইবার ট্রাইব্যুনাল আদালত, ঢাকা, পিটিশন মামলা নং ১৯১/২০২০; ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন ২০১৮-এর ২৫/২৬/২৯/৩১/৩৩ ধারা। বাদী: খন্দকার রাকিবুল হাসান (৩০), প্রকাশক বরিশাল ক্রাইম নিউজ ডট কম এবং সাধারণ সম্পাদক নিউজ এডিটর কাউন্সিল বরিশাল, পিতা: রফিকুল ইসলাম খন্দকার, পশুরীকাঠী, কোতয়ালী, বরিশাল। ৫. বরিশাল চীফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালত, সি.আর. মামলা নং ৭২/২০২০; দণ্ডবিধি আইনের ৪২০/৫০১/৫০২ ধারা। আসামী দৈনিক দখিন-এর মুখপত্রিকার সম্পাদক থাকা অবস্থায় বাদীকে বিজ্ঞাপন ব্যবস্থাপকের চাকরির নিয়োগপত্র এবং ৩৩ মাসের বেতন বাবদ দুই লক্ষ চার হাজার দুইশত টাকা না দিয়ে প্রতারণার মামলা। বাদী: রফিকুল ইসলাম রাসেল (৩৫), পিং আব্দুল খালেক হাং, ঠিকানা: পশ্চিম পরশ সাগর মাঠ, ১৬ নং ওয়ার্ড, বিসিসি, কোতয়ালী, বরিশাল। ৬.এয়ারপোর্ট থানা বরিশাল, সাধারণ ডায়েরী নং ৫৯০, তারিখ ১৯/০৩/২০১৪; বিভিন্ন অভিযোগের বিষয়: জমি-জমা সংক্রান্ত সমস্যা। মোকাম: বরিশাল মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালত, এম.পি. মোকদ্দমা নং ১৫৯/২০১৪ (বিমানবন্দর), তারিখ: ২২/০৫/২০১৪; দণ্ডবিধি আইনের
১৪৩/৩২৩/৩৮৫/৩৮৬/৩৮৭/৩৭৯/৫০৬(২) ধারা। গ্রেফতারী ওয়ারেন্ট নং ১৫৪, তারিখ: ২৪/০৫/১৪ অভিযোগকারী: এস. এম. জুবায়েত মোর্শেদ (রিয়াজ) ও এস. এম. মুশফিকুল হাসান (মাসুম), পিতা: মৃত ইসরাইল সিকদার, ঠিকানা: শের-ই-বাংলা সড়ক, ২৮ নং ওয়ার্ড, বিসিসি, নতুল্লাবাদ, বরিশাল। ফোন: ০১৭১৫-৩৫০৫৭০ ৭. লিগ্যাল নোটিশ: গ্রহিতা: এস. এম. জাকির হোসেন, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, দৈনিক মতবাদ, এন. হোসেন ব্রাদার্স কমপ্লেক্স, আইয়ুব ভবন (নীচতলা), পুলিশ লাইন রোড, বরিশাল সদর, বরিশাল। নোটিশ দাতা: ফাদার লাজারুশ গোমেজ, ভিখার জেনারেল, বরিশাল কাথলিক ডায়োসিস, ৫ নং সদর রোড, বরিশাল। নোটিশের বিষয়: ইংরেজি ২৩/০২/২০২১ তারিখ, মঙ্গলবার, ‘দৈনিক মতবাদ’ নামক পত্রিকায় “বরিশালের বিতর্কিত বিশপকে বদলী” শিরোনামে মিথ্যা ও বানোয়াট তথ্য সংবলিত হিংসাত্মক সংবাদ প্রকাশ। ৮. ঢাকায় ২৪’র জুলাই আন্দোলনে ছাত্রজনতার উপর হামলায় খুনের ঘটনায় দায়ের করা মামলার আসামি। যেভাবে ছদ্দবেশে টিকে আছেন আওয়ামী দোসর জাকির: আওয়ামী লীগের পৃষ্ঠপোষক হয়েও ৫ আগস্টের পর বরিশালে বহাল তবিয়তে ছিল জাকির। এজন্য নানা সেক্টরে অর্থ ঢেলেছেন। জামায়াতে ইসলামীর কয়েক নেতাকে ভুল বুঝিয়ে তাদের শেল্টারে এ যাত্রা বেঁচে যান। এমনকি বিএনপির এক এমপি এবং কয়েক নেতার সঙ্গেও সখ্য গড়ে তুলে টিকে থাকেন
জাকির। যদিও বিএনপি নেতাদের উপর হামলার কারিগর ছিলেন প্রতারক ও ভন্ড জাকির। আওয়ামী লীগের সঙ্গেও গাদ্দারি: নিজের আখের গোছাতে ১৭ বছর আ’লীগে ভর করা এস এম জাকির হোসেন ৫ আগস্টের পর বড় গাদ্দারি করেছে। বিভিন্ন সময় রটিয়ে বেড়িয়েছে যে সাবেক মেয়র ও মহানগর আ’লীগের সাধারন সম্পাদক সাদিক আব্দুল্লাহকে আর রাজনীতি করতে দেয়া হবে না। এজন্য জাকির নিজেই মহানগর আ’লীগের সাধারন সম্পাদক পদ বাগাতে নানাভাবে তদবির চালাচ্ছে। যেকারনে ভোল পাল্টানো এস এম জাকিরের উপর ক্ষুব্ধ আওয়ামী লীগের হাই কমান্ড। জাতীয় নির্বাচনে একটি দলের হয়ে কাজ করার খবরও ফাঁস হয়ে যাওয়ায় বেকায়দায় পড়েছে জাকির। প্রশাসনে যত গোপন খবর: পুলিশ এবং একটি গোয়েন্দা সংস্থার দায়িত্বশীল কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, আওয়ামী দোষর এস এম জাকির যে নিষেদ্ধ দলটির নেতাদের পৃষ্ঠপোষকতা করছে এবং নানা কর্মসুচীতে অর্থের যোগান দেয় সে ধরনের তথ্য তাদের কাছে আছে। এমনকি ভারতে গিয়ে এস এম জাকির যে আ’লীগের শীর্ষ নেতাদের সঙ্গে দেখা করেছে এমন তথ্য খতিয়ে দেখা হচ্ছে। নজরদারীতেও রাখা হয়েছে তাকে। যা বললেন এস এম জাকির: এসব বিষয় জানতে এস এম জাকির হোসেনকে একাধিকবার ফোন দেয়া হলেও তিনি রিসিভ করেননি। হোয়াটসআপ, ম্যাসেঞ্জারেও সাড়া দেননি। তার প্রতিষ্ঠান ইউরো ক্যাফে এবং ইউরো কনভেনশন হলে গিয়েও পাওয়া যায়নি।