এম. ইয়ামিন আহমেদ | মহিপুর কুয়াকাটা প্রতিনিধি
পটুয়াখালীর পর্যটন নগরী কুয়াকাটায় বর্তমানে বিরাজ করছে এক গুমোট পরিস্থিতি। দীর্ঘস্থায়ী বিদ্যুৎ বিভ্রাট আর অসহনীয় লোডশেডিংয়ের কবলে পড়ে দেশের অন্যতম এই পর্যটন কেন্দ্রটি এখন পর্যটক খরায় ভুগছে। একদিকে প্রচণ্ড গরম, অন্যদিকে ঘণ্টার পর ঘণ্টা বিদ্যুৎ না থাকায় বুকিং বাতিল করে পর্যটকরা ফিরে যাচ্ছেন। এতে পথে বসার উপক্রম হয়েছে শত শত হোটেল-মোটেল ব্যবসায়ী ও পর্যটন সংশ্লিষ্ট ক্ষুদ্র উদ্যোক্তাদের।
সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, কুয়াকাটা পৌর এলাকায় দিনের অর্ধেকেরও বেশি সময় বিদ্যুৎ থাকছে না। রাত নামলে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হয়ে ওঠে। স্থানীয় ব্যবসায়ীদের অভিযোগ, পল্লী বিদ্যুতের অসহনীয় লোডশেডিংয়ের কারণে এসিসহ বিলাসবহুল কক্ষগুলো এখন তপ্ত চুল্লিতে পরিণত হয়েছে। জেনারেটর চালিয়ে পরিস্থিতি সামাল দেওয়ার চেষ্টা করলেও জ্বালানি তেলের চড়া দাম ও সংকটের কারণে সেটিও এখন প্রায় অসম্ভব হয়ে দাঁড়িয়েছে।
ঢাকা থেকে সপরিবারে আসা পর্যটক শফিকুল ইসলাম বলেন, "সাগর দেখতে এসেছিলাম একটু শান্তির জন্য। কিন্তু হোটেলে কারেন্ট নেই, জেনারেটরও চলছে না। গরমে বাচ্চারা অসুস্থ হয়ে পড়ছে। বাধ্য হয়ে দুই দিনের ট্যুর এক দিনেই শেষ করে ফিরে যাচ্ছি।
হোটেল-মোটেল ওনার্স অ্যাসোসিয়েশনের তথ্যমতে, গত এক সপ্তাহে প্রায় ৪০% আগাম বুকিং বাতিল হয়েছে। পর্যটকরা আসার আগে বিদ্যুৎ পরিস্থিতি জানতে চেয়ে ফোন করছেন এবং নেতিবাচক উত্তর পেয়ে ভ্রমণ পরিকল্পনা পরিবর্তন করছেন।
বিদ্যুৎ না থাকায় কুয়াকাটার কয়েক শ হোটেল-রেস্তোরাঁ, শামুক-ঝিনুকের দোকান এবং ফটোগ্রাফাররা চরম লোকসানে পড়েছেন।
হোটেল মালিকরা জানাচ্ছেন, বিদ্যুৎ না থাকলেও কর্মচারীদের বেতন ও রক্ষণাবেক্ষণ খরচ ঠিকই দিতে হচ্ছে।
রেস্তোরাঁ মালিকদের ফ্রিজে থাকা হাজার হাজার টাকার মাছ-মাংস নষ্ট হয়ে যাচ্ছে।
ফটোগ্রাফার ও বাইক চালকদের আয় নেমেছে অর্ধেকের নিচে।
কুয়াকাটা পল্লী বিদ্যুৎ জোনের দায়িত্বরত কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, জাতীয় গ্রিডে বিদ্যুৎ উৎপাদনের ঘাটতি এবং জ্বালানি সংকটের কারণে এই লোডশেডিং হচ্ছে। পরিস্থিতি স্বাভাবিক করতে উচ্চপর্যায়ে যোগাযোগ করা হচ্ছে বলে তারা দাবি করেন।
পর্যটন সংশ্লিষ্টরা মনে করেন, কুয়াকাটাকে বিশেষ পর্যটন জোন হিসেবে বিবেচনা করে এখানে নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহ নিশ্চিত করা জরুরি। অন্যথায়, ‘সাগরকন্যা’ খ্যাত এই জনপদটি অচিরেই তার জৌলুস হারিয়ে বড় ধরনের অর্থনৈতিক ধসের মুখে পড়বে।
কুয়াকাটা এখন কেবল সূর্যের আলোয় নয়, বিদ্যুতের আলোয়ও আলোকিত হতে চায়—এমনটাই এখন সাধারণ ব্যবসায়ী ও পর্যটকদের প্রাণের দাবি।