মোঃ রবিন আলি | ক্রাইম রিপোর্টার
জামালপুর জেলার এক মাদ্রাসা শিক্ষক কথিত ডিজিটাল বিনিয়োগের ফাঁদে ফেলে সাধারণ মানুষের কোটি টাকা আত্মসাৎ করে আত্মগোপনে চলে গেছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। অভিযুক্ত আলাল উদ্দিন, স্থানীয়ভাবে ‘আলাল মাস্টার’ নামে পরিচিত।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, তিনি শ্রীপুর ইউনিয়ন এলাকার কেশবপুর ইসলামিয়া দাখিল মাদ্রাসা-এর সহকারী শিক্ষক হিসেবে কর্মরত ছিলেন। ধর্মীয় পোশাক ও শিক্ষকতার সামাজিক মর্যাদাকে কাজে লাগিয়ে গত প্রায় ছয় মাস ধরে তিনি একটি অনলাইন অ্যাপের মাধ্যমে “স্বল্প সময়ে টাকা দ্বিগুণ” করার প্রলোভন দেখিয়ে স্থানীয়দের কাছ থেকে বিপুল অঙ্কের অর্থ সংগ্রহ করেন।
ভুক্তভোগীরা জানান, ৫ হাজার টাকা দিলে ১০ হাজার এবং ১ লাখ টাকা দিলে কয়েক মিনিটের মধ্যেই ২ লাখ টাকা হয়ে যাবে—এমন লোভনীয় প্রতিশ্রুতি দিয়ে তিনি মানুষকে বিনিয়োগে উৎসাহিত করতেন। টাকা দেওয়ার কিছুক্ষণের মধ্যেই একটি মোবাইল অ্যাপে বিনিয়োগকারীদের অ্যাকাউন্টে দ্বিগুণ বা তিনগুণ অর্থ দেখানো হতো। তবে সেই অর্থ উত্তোলনের পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ ছিল অভিযুক্তের হাতে। ফলে অ্যাপে টাকার পরিমাণ বাড়লেও বাস্তবে কেউই সেই অর্থ তুলতে পারেননি।
স্থানীয়দের দাবি, ‘হুজুর’ হিসেবে পরিচিত হওয়ায় অনেকেই তাকে অন্ধের মতো বিশ্বাস করতেন। এই বিশ্বাসের সুযোগ নিয়েই তিনি প্রতারণার জাল বিস্তার করেন।
এই প্রতারণার শিকার হয়ে এখন বহু পরিবার আর্থিক সংকটে পড়েছে। ভুক্তভোগী এক প্রবাসী, মাসুদ মিয়া জানান, বিদেশ যাওয়ার জন্য জমানো ৫০ হাজার টাকা দ্বিগুণ করে দেওয়ার আশ্বাস দিয়ে অভিযুক্ত তা হাতিয়ে নেন। অন্যদিকে, এক অসহায় নারী তার সঞ্চিত ৫ হাজার টাকা হারিয়ে বর্তমানে সন্তানের খাবার জোগাতে হিমশিম খাচ্ছেন বলে জানান।
অভিযোগ উঠেছে, কয়েক দিন আগে হঠাৎ করেই আলাল মাস্টার এলাকা ছেড়ে আত্মগোপনে চলে যান। এরপর থেকেই তার বাড়ির সামনে ভুক্তভোগীদের ভিড় বাড়তে থাকে। পাওনা টাকা ফেরতের দাবিতে অনেকে সেখানে অবস্থান ও অনশন কর্মসূচিও পালন করছেন।
এ বিষয়ে স্থানীয় প্রশাসনের পক্ষ থেকে এখনো আনুষ্ঠানিক কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি। তবে এলাকাবাসী দ্রুত তদন্ত করে অভিযুক্তকে আইনের আওতায় আনার দাবি জানিয়েছেন। এটা কোন ক্যাটাগরির হবে