এম. ইয়ামিন আহমেদ | মহিপুর কুয়াকাটা প্রতিনিধি
পটুয়াখালীর কলাপাড়া উপজেলার মহিপুর ইউনিয়নের ইউসুফপুর গ্রামে দীর্ঘদিন ধরে অবৈধ দখলে থাকা একটি জনগুরুত্বপূর্ণ সড়ক অবশেষে জনসাধারণের চলাচলের জন্য উন্মুক্ত করা হয়েছে। বহু বছর ধরে সরকারি ম্যাপে থাকা এই রাস্তাটি বন্ধ থাকায় স্থানীয় বাসিন্দাদের চরম ভোগান্তির শিকার হতে হচ্ছিল।
অবশেষে এলাকাবাসীর দীর্ঘদিনের দাবি ও আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে মহিপুর সদর ইউনিয়ন পরিষদের উদ্যোগে রাস্তাটি সফলভাবে দখলমুক্ত করা হয়।
রবিবার সকালে মহিপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান হাজী মোঃ ফজলু গাজীর নেতৃত্বে স্থানীয় জনপ্রতিনিধি, রাজনৈতিক নেতাকর্মী ও গণ্যমান্য ব্যক্তিদের উপস্থিতিতে রাস্তাটি উন্মুক্ত করা হয়। দীর্ঘদিন পর নিজেদের যাতায়াতের পথ ফিরে পেয়ে এলাকাজুড়ে স্বস্তি ও আনন্দের পরিবেশ সৃষ্টি হয়েছে।
অবসান হলো দীর্ঘদিনের মানবিক সংকটের
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, দীর্ঘ বছর ধরে রাস্তাটি বন্ধ থাকায় স্কুল-কলেজগামী শিক্ষার্থী, শিশু, বৃদ্ধ ও সাধারণ মানুষকে বিকল্প এবং অত্যন্ত দুর্গম পথ ব্যবহার করতে হতো। বিশেষ করে বর্ষাকালে এই অঞ্চলের মানুষের চলাচলের দুর্ভোগ কয়েকগুণ বেড়ে যেত। এমনকি মুমূর্ষু কোনো রোগী দ্রুত হাসপাতালে পরিবহনের ক্ষেত্রেও তৈরি হতো চরম প্রতিবন্ধকতা। রাস্তাটি উন্মুক্ত হওয়ায় এই মানবিক সংকটের স্থায়ী সমাধান হলো।
উপস্থিত নেতৃবৃন্দের বক্তব্য ও সংহতি
রাস্তা উন্মুক্তকরণ কর্মসূচিতে স্থানীয় বিভিন্ন পর্যায়ের রাজনৈতিক ও সামাজিক নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।
মহিপুর থানা বিএনপির সভাপতি
আঃ জলিল হাওলাদার
সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট
শাহজাহান পারভেজ
মহিপুর সদর ইউনিয়ন বিএনপির সিনিয়র সহ-
সভাপতি হাফেজ আঃ বারেক হাওলাদার
সদর ইউনিয়ন যুবদলের সভাপতি মনির মুসল্লী
২নং ওয়ার্ড যুবদলের সভাপতি ইসমাইল হাওলাদার, সাধারণ সম্পাদক আনোয়ার ভদ্র
২নং ওয়ার্ড স্বেচ্ছাসেবক দলের সাধারণ সম্পাদক তৈয়ব আলীসহ স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ।
জনস্বার্থে নেওয়া এই উদ্যোগের প্রশংসা করে মহিপুর থানা বিএনপির সভাপতি আঃ জলিল হাওলাদার বলেন,
দীর্ঘদিনের একটি জনদুর্ভোগের অবসান হয়েছে। সাধারণ মানুষের চলাচলের সুবিধার্থে রাস্তাটি উন্মুক্ত করায় এলাকাবাসীর মধ্যে স্বস্তি ফিরে এসেছে। জনগণের স্বার্থে এ ধরনের জনকল্যাণমূলক উদ্যোগ ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে।
অন্যান্য স্থানীয় নেতৃবৃন্দরা জানান, এই উদ্যোগের ফলে গ্রামের মানুষের দৈনন্দিন যাতায়াত যেমন সহজ হবে, তেমনি এলাকার সামাজিক ও অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডেও ইতিবাচক প্রভাব পড়বে।
এলাকাবাসীর স্বস্তি ও ভবিষ্যৎ প্রত্যাশা
রাস্তাটি পুনরায় সচল হওয়ায় স্থানীয় সাধারণ মানুষের মাঝে ব্যাপক সন্তোষ ও উচ্ছ্বাস দেখা গেছে। দীর্ঘদিনের কষ্ট লাঘব করায় তারা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের প্রতি গভীর কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছেন।
তবে আনন্দের পাশাপাশি স্থানীয় বাসিন্দারা একটি স্থায়ী সমাধানেরও দাবি জানিয়েছেন। তাদের প্রত্যাশা—ভবিষ্যতে যেন আর কোনো প্রভাবশালী মহল বা স্বার্থান্বেষী গোষ্ঠী জনগণের এই চলাচলের পথ পুনরায় দখল করতে না পারে। এই বিষয়ে স্থানীয় প্রশাসন ও জনপ্রতিনিধিরা আগামীতেও কঠোর ও কার্যকর ভূমিকা পালন করবেন বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেন তারা।