এস এম নজরুল ইসলাম মফস্বল সম্পাদক গৌরনদী বরিশাল
ওয়াশিংটন: বিশ্ব রাজনীতিতে চিরবৈরী দেশ ইরানকে কোণঠাসা করতে এবং মধ্যপ্রাচ্যে নিজেদের একচ্ছত্র আধিপত্যের জানান দিতে এক নজিরবিহীন ও চরম বার্তা দিয়েছেন নবনির্বাচিত মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। যুক্তরাষ্ট্রের জাতীয় পতাকার ব্যাকগ্রাউন্ডে ইরানসহ সমগ্র মধ্যপ্রাচ্যের ভৌগোলিক মানচিত্র ফুটিয়ে তুলে এক বিশেষ বার্তা প্রকাশ করেছেন তিনি।
যেখানে দেখা যাচ্ছে, মার্কিন পতাকার লাল-সাদা স্ট্রাইপ ও তারকা খচিত অংশ দিয়ে মধ্যপ্রাচ্যকে আবৃত করা হয়েছে এবং সমস্ত সামরিক ও কৌশলগত দিকনির্দেশনার তীরচিহ্নগুলো সরাসরি ইরানের দিকে তাক করা রয়েছে। ট্রাম্পের এমন ইঙ্গিতবাহী পদক্ষেপের পর আন্তর্জাতিক মহলে নতুন করে যুদ্ধ ও চরম সামরিক উত্তেজনার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।
ইরানকে অবরুদ্ধ করার প্রকাশ্য কৌশলগত ছক
ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রকাশিত এই মানচিত্রটি গভীরভাবে বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, ওয়াশিংটন এবার তেহরানকে চারপাশ থেকে সম্পূর্ণ অবরুদ্ধ বা 'এনসার্কেলমেন্ট' করার একটি দীর্ঘমেয়াদি ও আগ্রাসী সামরিক ছক কষছে। মানচিত্রে ইরানের প্রতিবেশী রাষ্ট্র পাকিস্তান, আফগানিস্তান, তুর্কমেনিস্তান, আজারবাইজান এবং ওমান ও সংযুক্ত আরব আমিরাত (ইউএই) সংলগ্ন সমুদ্রসীমা থেকে লাল রঙের একাধিক তীরচিহ্ন সরাসরি ইরানের মূল ভূখণ্ডের দিকে ধাবিত হতে দেখা যাচ্ছে।
ভূ-রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞদের মতে, এটি কেবল কোনো প্রতীকী ছবি নয়, বরং ট্রাম্প প্রশাসনের দ্বিতীয় মেয়াদে ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি ও আঞ্চলিক প্রভাব রুখতে বহুমাত্রিক সামরিক ও অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা আরোপের একটি প্রকাশ্য ব্লুপ্রিন্ট।
‘সর্বোচ্চ চাপ’ নীতির দ্বিতীয় অধ্যায়
ট্রাম্প তার প্রথম মেয়াদে ইরানের সাথে ঐতিহাসিক পরমাণু চুক্তি (JCPOA) থেকে যুক্তরাষ্ট্রকে একতরফাভাবে বের করে নিয়েছিলেন এবং তেহরানের ওপর 'সর্বোচ্চ চাপ' (Maximum Pressure) নীতি প্রয়োগ করেছিলেন। এবার হোয়াইট হাউজে ফেরার পর সেই নীতিকে আরও এক ধাপ কঠোর করার স্পষ্ট আভাস দিলেন তিনি। ট্রাম্পের এই নতুন মানচিত্র প্রকাশের মূল উদ্দেশ্য হলো মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন মিত্র দেশগুলোকে একত্রিত করা এবং ইরানকে ভূ-রাজনৈতিকভাবে সম্পূর্ণ একঘরে করে ফেলা।
বিশেষ করে পারস্য উপসাগর এবং ওমান সাগরে মার্কিন নৌবাহিনীর উপস্থিতি বাড়িয়ে ইরানের তেল রপ্তানি ও বাণিজ্যিক পথ পুরোপুরি বন্ধ করার একটি প্রচ্ছন্ন হুমকি হিসেবে এটিকে দেখা হচ্ছে।
মধ্যপ্রাচ্য ও বিশ্ব রাজনীতিতে সম্ভাব্য প্রতিক্রিয়া
ট্রাম্পের এই উস্কানিমূলক বার্তার পর মধ্যপ্রাচ্যের রাজনৈতিক অঙ্গন ইতিমধ্যে উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে। তেহরানের পক্ষ থেকে এখনও আনুষ্ঠানিক কোনো কড়া জবাব না আসলেও, বিশ্লেষকরা মনে করছেন এই পদক্ষেপ ইরানকে আরও বেশি পরমাণু সমৃদ্ধকরণের দিকে ধাবিত করতে পারে।
অন্যদিকে, যুক্তরাষ্ট্রের এই কট্টর অবস্থানের ফলে মধ্যপ্রাচ্যে রাশিয়ার প্রভাব এবং চীনের অর্থনৈতিক মধ্যস্থতার প্রচেষ্টা নতুন চ্যালেঞ্জের মুখে পড়বে। মার্কিন প্রতিরক্ষা বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, ট্রাম্প এই মানচিত্রের মাধ্যমে মার্কিন জনগণকে এই বার্তাই দিতে চেয়েছেন যে, তার প্রশাসনে মার্কিন স্বার্থ ও জাতীয় নিরাপত্তাই সবার আগে এবং মধ্যপ্রাচ্যের যেকোনো জলঘোলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে ওয়াশিংটন সরাসরি হস্তক্ষেপ করতে দ্বিধা করবে না।
সংবাদ সূত্র আল জাজিরা রয়টার ওসিএন