তালাত মাহামুদ | বিশেষ প্রতিনিধি
নরসিংদী : মাধবদী থানার মেহেরপাড়া ইউনিয়নের পৌলানপুর এলাকায় এক কিশোরীর নির্যাতনের ঘটনাকে কেন্দ্র করে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে মিথ্যা অপপ্রচার ও প্রাণনাশের হুমকির অভিযোগ তুলে সংবাদ সম্মেলন করেছেন আসন্ন ইউপি নির্বাচনের ৪ নং ওয়ার্ডের মেম্বার প্রার্থী মোঃ আব্দুল বাসেদ মিয়া ও তার পরিবার।
আজ বুধবার ৬ মে ২০২৬ নিজ বাসভবনে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে তিনি ঘটনার নিন্দা জানানোর পাশাপাশি প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করেন।
*প্রার্থীর বক্তব্য: ঘটনার সঙ্গে সম্পৃক্ততা নেই*
লিখিত বক্তব্যে আব্দুল বাসেদ মিয়া বলেন, "পৌলানপুরের ঘটনায় ২ জনের নাম উল্লেখ করে মাধবদী থানায় অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে এবং ইতোমধ্যে ১ জন গ্রেপ্তার হয়েছেন। কিন্তু একটি কুচক্রী মহল আমার নির্বাচনী জনপ্রিয়তা ও সুনাম ক্ষুণ্ন করতে এই ন্যাক্কারজনক ঘটনার সঙ্গে আমাকে, আমার ছেলে ও পরিবারকে জড়িয়ে ফেসবুকসহ সামাজিক মাধ্যমে সম্পূর্ণ মিথ্যা ও বানোয়াট অপপ্রচার চালাচ্ছে। এ ঘটনার সঙ্গে আমার বা আমার পরিবারের কোনো দূরতম সম্পর্ক নেই।"
তিনি আরও অভিযোগ করেন, জাহাঙ্গীর ও তার ভাই আলমগীর নামের দুই ব্যক্তি তাকে প্রাণনাশের হুমকি দিয়েছেন। বর্তমানে তিনি ও তার পরিবার নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন বলে জানিয়ে প্রশাসনের কাছে সুষ্ঠু তদন্ত ও নিরাপত্তা দাবি করেন। একইসঙ্গে অপপ্রচারের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার কথাও জানান।
*সংশ্লিষ্টদের বক্তব্য*
ঘটনার বিষয়ে বান্ধব টেক্সটাইল কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তারা জানান, ঘটনার রাতে ওই নারী শ্রমিক ডিউটিতে আসেননি। অসুস্থতার কথা বলে রাত ১০টার দিকে তিনি ছুটি নিয়েছিলেন।
অন্যদিকে ভুক্তভোগী কিশোরীর মা সাংবাদিকদের বলেন, "ঘটনাস্থলে ধর্ষণের কোনো ঘটনা আমরা নিজেরা শুনিনি। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ও ফেসবুকের মাধ্যমেই আমরা বিষয়টি প্রথম জানতে পেরেছি।"
*এলাকাবাসীর দাবি*
চাঞ্চল্যকর এই ঘটনায় পুরো এলাকায় উদ্বেগ ছড়িয়ে পড়েছে। স্থানীয় বাসিন্দারা সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত দোষীদের চিহ্নিত করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন। একইসঙ্গে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে গুজব ও অপপ্রচার রোধে সচেতন থাকার আহ্বান জানান তারা।
*পত্রিকার দৃষ্টিকোণ*
কিশোরী নির্যাতনের মতো স্পর্শকাতর ঘটনায় গুজব ছড়ানো আইনত দণ্ডনীয় অপরাধ। নির্বাচনের সময়ে প্রতিপক্ষকে ঘায়েল করতে ব্যক্তি ও পরিবারকে জড়িয়ে মিথ্যা প্রচারণা চালানো গণতান্ত্রিক চর্চার পরিপন্থী।
আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা ও ভুক্তভোগীর ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে হলে গুজব এড়িয়ে প্রশাসনিক তদন্তের ফলাফলের জন্য অপেক্ষা করাই শ্রেয়। পাশাপাশি জনপ্রতিনিধি প্রার্থীর নিরাপত্তার বিষয়টিও প্রশাসনের গুরুত্ব দিয়ে দেখা উচিত।
*সম্পাদকীয় নোট*: এই প্রতিবেদন সংবাদ সম্মেলনে প্রাপ্ত তথ্য ও সংশ্লিষ্ট পক্ষের বক্তব্যের ভিত্তিতে প্রস্তুত। অভিযোগ প্রমাণিত না হওয়া পর্যন্ত কাউকে দোষী হিসেবে গণ্য করা হয়নি। মামলার তদন্তাধীন বিষয়ে আদালত ও প্রশাসনের সিদ্ধান্তই চূড়ান্ত।