খাইরুল ইসলাম
রিপোর্টার (পটুয়াখালী):
দক্ষিণ-পশ্চিম মৌসুমি বায়ু সক্রিয় থাকার কারণে উপকূলীয় জেলা পটুয়াখালীর সাগরকন্যা কুয়াকাটায় চলছে অবিরাম ভারী থেকে অতি ভারী বর্ষণ। গত কয়েকদিন ধরে চলা এই মুষলধারে বৃষ্টি এবং সাথে ঝড়ো হাওয়ার কারণে স্থবির হয়ে পড়েছে কুয়াকাটার স্বাভাবিক জনজীবন। উত্তাল সাগরের বিশাল বিশাল ঢেউ এসে আছড়ে পড়ছে সৈকতে। বৈরী আবহাওয়ার কারণে দেশের অন্যতম প্রধান এই পর্যটন কেন্দ্রটি এখন প্রায় পর্যটকশূন্য।
উত্তাল সমুদ্র ও সতর্ক সংকেত:
আবহাওয়া অফিস সূত্রে জানা গেছে, বঙ্গোপসাগরে বায়ুচাপ তারতম্যের আধিক্য বিরাজ করায় উপকূলীয় এলাকায় ঝড়ো হাওয়া বয়ে যাচ্ছে। কুয়াকাটা সংলগ্ন বঙ্গোপসাগর বেশ উত্তাল রয়েছে। সমুদ্রের এই রুদ্ররূপের কারণে পায়রা সমুদ্র বন্দরসহ দেশের সব সমুদ্র বন্দরকে ৩ নম্বর স্থানীয় সতর্ক সংকেত দেখিয়ে যেতে বলা হয়েছে। মাছ ধরার শত শত ট্রলার গভীর সমুদ্র থেকে ফিরে কুয়াকাটার আলীপুর-মহিপুর মৎস্য বন্দরসহ বিভিন্ন নিরাপদ শিবিরের ঘাটে আশ্রয় নিয়েছে। জেলেদের পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত সাগরে না যাওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
জনজীবন ও পর্যটনে স্থবিরতা:
টানা ভারী বৃষ্টির কারণে কুয়াকাটা পৌর শহরের বিভিন্ন নিচু এলাকায় এবং রাস্তায় জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়েছে। গ্রামীণ অঞ্চলের অনেক মাছের ঘের ও ফসলি জমি তলিয়ে যাওয়ার খবর পাওয়া গেছে। সবচেয়ে বেশি বিপাকে পড়েছেন খেটে খাওয়া সাধারণ মানুষ ও পর্যটন সংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ীরা।
হোটেল-মোটেল ও স্থানীয় ব্যবসায়ীদের সাথে কথা বলে জানা যায়:
খালি হোটেল-মোটেল: কুয়াকাটার প্রায় ৯০ শতাংশ হোটেলের রুম বর্তমানে খালি পড়ে আছে। বৈরী আবহাওয়ার কারণে অনেক পর্যটক আগেভাগেই তাদের ছুটি সংক্ষিপ্ত করে গন্তব্যে ফিরে গেছেন।
ব্যবসায় ধস: সৈকত এলাকার ছাতা (ছ্যামড়া) ব্যবসায়ী, ঝিনুক ও শুঁটকির দোকান, কাঁকড়া ফ্রাই ও বার্মিজ আচারের দোকানগুলোতে বেচাকেনা একপ্রকার শূন্যের কোঠায়। ক্রেতা না থাকায় অনেক ব্যবসায়ী দোকান বন্ধ করে অলস সময় পার করছেন।
পরিবহন সংকটে চালকেরা: পর্যটক না থাকায় স্থানীয় অটো-রিকশা, ভ্যান ও পর্যটকবাহী মোটরবাইক চালকেরা পড়েছেন চরম আর্থিক সংকটে।
হতাশ পর্যটকেরা:
ঢাকা থেকে সপরিবারে ঘুরতে আসা পর্যটক তৌহিদ হাসান জানান, "অনেক আশা নিয়ে সাগরকন্যায় এসেছিলাম সূর্যোদয় আর সূর্যাস্ত দেখতে। কিন্তু টানা বৃষ্টি আর ঝড়ো বাতাসের কারণে হোটেল থেকে বের হওয়াই মুশকিল হয়ে গেছে। সাগরের রূপ সুন্দর, কিন্তু একা একা জনমানবহীন সৈকতে নামতেও ভয় লাগছে। আনন্দটাই মাটি হয়ে গেল।"
ট্যুরিস্ট পুলিশের বক্তব্য:
কুয়াকাটা ট্যুরিস্ট পুলিশের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, এই বৈরী আবহাওয়ার মধ্যেও যে সীমিত সংখ্যক পর্যটক সৈকতে আছেন, তাদের সুরক্ষায় কঠোর নজরদারি রাখা হচ্ছে। মাইকিং করে পর্যটকদের গভীর সাগরে নামতে নিষেধ করা হচ্ছে এবং সাগরে নামার ক্ষেত্রে লাইফ জ্যাকেট ব্যবহার নিশ্চিত করতে বলা হচ্ছে।
আবহাওয়া অধিদপ্তরের পূর্বাভাস অনুযায়ী, উপকূলীয় এলাকায় এই বৃষ্টিপাত ও ঝড়ো হাওয়া আরও ১-২ দিন অব্যাহত থাকতে পারে। বৃষ্টি কমলে এবং সমুদ্র শান্ত হলে আবারও কুয়াকাটা তার চেনা রূপে ফিরবে—এমনটাই প্রত্যাশা স্থানীয় বাসিন্দাদের।