মোঃ ইমরান, কলাপাড়া উপজেলা প্রতিনিধি
কুয়াকাটা, পটুয়াখালী:
পটুয়াখালীর পর্যটন নগরী কুয়াকাটার লতাচাপলী ইউনিয়নের তাজেপাড়া গ্রামে এক নতুন কাব্যিক জাগরণ তৈরি হয়েছে। পেশা বা পারিপার্শ্বিক নানা ব্যস্ততার মাঝেও শুধু হৃদয়ের টানে কবিতা লিখে পুরো কুয়াকাটা জুড়ে ব্যাপক জনপ্রিয়তা অর্জন করেছেন স্থানীয় তরুণ খায়রুল ইসলাম।
বর্তমানে কুয়াকাটার আনাচে-কানাচে সাহিত্যপ্রেমীদের মুখে মুখে ঘুরছে তার নাম। সাধারণ মানুষের সুখ-দুঃখ, কুয়াকাটার প্রাকৃতিক সৌন্দর্য, সাগরপাড়ের মানুষের জীবনসংগ্রাম এবং প্রেম-বিরহ—সবকিছুই চমৎকারভাবে ফুটে উঠছে খায়রুল ইসলামের কলমে।
গ্রামের ছেলে থেকে কুয়াকাটার 'কবি'
তাজেপাড়া গ্রামের এক সাধারণ পরিবারে বড় হওয়া খায়রুল ইসলামের কবিতার প্রতি ঝোঁক তৈরি হয় বেশ আগে থেকেই। প্রাতিষ্ঠানিক বড় কোনো ডিগ্রি না থাকলেও, তার লেখার গভীরতা এবং সহজ-সরল শব্দের গাঁথুনি সহজেই সাধারণ মানুষের মন ছুঁয়ে যায়। প্রথমে নিজের ডায়েরির পাতায় লেখা শুরু করলেও, পরবর্তীতে তা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম এবং স্থানীয় বিভিন্ন আড্ডায় ছড়িয়ে পড়ে।
বর্তমানে কুয়াকাটার যেকোনো সামাজিক বা সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে খায়রুল ইসলামের কবিতা পাঠ এক অন্যতম আকর্ষণে পরিণত হয়েছে। স্থানীয় বাসিন্দারা তাকে এখন ভালোবেসে 'কুয়াকাটার কবি' বলেই ডাকেন।
যা বলছেন স্থানীয়রা ও গুণীজনেরা
খায়রুল ইসলামের এই জনপ্রিয়তার বিষয়ে তাজেপাড়া ও কুয়াকাটার বেশ কয়েকজন স্থানীয় বাসিন্দার সাথে কথা বললে তারা অত্যন্ত গর্ব প্রকাশ করেন।
"খায়রুলের কবিতা শুনলে মন জুড়িয়ে যায়। আমাদের এই অবহেলিত উপকূলের মানুষের ভেতরের কথাগুলো ও যেভাবে ছন্দের মাধ্যমে তুলে ধরে, তা সত্যিই প্রশংসনীয়। আমরা চাই ও আরও বড় হোক।"
— তাজেপাড়ার এক স্থানীয় বাসিন্দা।
স্থানীয় কবি ও সাহিত্যিকদের মতে, সরকারি বা বেসরকারিভাবে একটু পৃষ্ঠপোষকতা পেলে খায়রুল ইসলামের এই প্রতিভা কুয়াকাটার গণ্ডি পেরিয়ে দেশজুড়ে আলো ছড়াতে পারে। তার এই কবিতা লেখার চর্চা কুয়াকাটার তরুণ প্রজন্মকে মাদক ও অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড থেকে দূরে রেখে সুস্থ সংস্কৃতির দিকে ধাবিত করতে অগ্রণী ভূমিকা রাখছে।
কবির ভবিষ্যৎ স্বপ্ন
নিজের এই জনপ্রিয়তার বিষয়ে অনুভূতি জানতে চাইলে কবি খায়রুল ইসলাম অত্যন্ত বিনয়ের সাথে বলেন:
"আমি কোনো বড় কবি নই। আমি শুধু আমার চারপাশের চেনা মানুষগুলোর ভেতরের অনুভূতি আর আমাদের কুয়াকাটার রূপকে খাতার পাতায় বন্দী করার চেষ্টা করি। মানুষ আমার লেখা পছন্দ করছে, এটাই আমার সবচেয়ে বড় সার্থকতা। ভবিষ্যতে আমার ইচ্ছে আছে একটি আস্ত কাব্যগ্রন্থ প্রকাশ করার, যাতে কুয়াকাটার ঐতিহ্য ও মানুষের গল্পগুলো চিরকাল বেঁচে থাকে।"
সমুদ্রের ঢেউয়ের গর্জনের পাশাপাশি কুয়াকাটার বুকে এখন প্রতিধ্বনিত হচ্ছে খায়রুল ইসলামের কবিতার ছন্দ। কলাপাড়া ও কুয়াকাটাবাসী আশা করছেন, তাজেপাড়ার এই তরুণ কবি তার লেখনীর মাধ্যমে একদিন সারা দেশের মানুষের হৃদয়ে স্থান করে নেবেন।