✍️ তালাত মাহামুদ, বিশেষ প্রতিনিধি, নরসিংদী
নরসিংদী শহরের ফুটপাত ও সরকারি রাস্তা নিয়ে এক অদ্ভুত দ্বৈতনীতি চোখে পড়ে। পেটের দায়ে যে হকার ফুটপাতের এক কোণে বসেন, প্রশাসন মুহূর্তেই তাকে উচ্ছেদ করে। "ফুটপাত জনসাধারণের চলাচলের জন্য" - এই যুক্তি তখন সবার মুখে মুখে।
অথচ শহরের প্রভাবশালী কিছু ব্যক্তি, যাদের আর্থিক সামর্থ্যের অভাব নেই, তারাই যখন সরকারি রাস্তা বা ফুটপাতের বড় অংশ দখল করে বিলাসবহুল স্থাপনা, বাগান বা শো-পিস বান - তখন সেই যুক্তি, সেই তৎপরতা কোথায় হারিয়ে যায়?
সাম্প্রতিক সময়ে নরসিংদীর এক বিশিষ্ট শিল্পপতির বাড়ির সামনের সরকারি রাস্তা-ফুটপাত ঘিরে এমন অভিযোগই জোরালো হচ্ছে। স্থানীয়দের দাবি, প্রভাবের জোরে জনসাধারণের চলাচলের জায়গা ব্যক্তিগত সৌন্দর্যবর্ধনের কাজে ব্যবহার করা হচ্ছে। ফলে পথচারী, শিক্ষার্থী, বৃদ্ধ ও নারীদের প্রতিদিন ঝুঁকি নিয়ে মূল সড়ক দিয়েই চলতে হচ্ছে।
*দ্বৈতনীতির প্রশ্ন*
নগর পরিকল্পনার মৌলিক নীতি হলো - ফুটপাত জনগণের হাঁটার অধিকার। হাইকোর্টের একাধিক রায়েও ফুটপাত দখলমুক্ত রাখার নির্দেশনা আছে। তাহলে প্রশ্ন ওঠে:
1. একজন হকারের ছোট্ট ঝুড়ি "অবৈধ দখল" হয়, কিন্তু রাস্তা গিলে খাওয়া বাগান "সৌন্দর্যায়ন" হয় কীভাবে?
2. গরিবের বেলায় "আইন", প্রভাবশালীর বেলায় "নীরবতা" - এই বৈষম্য কেন?
নরসিংদীর কোটিপতি কাদির মোল্লার মতো ব্যক্তিদের আর্থিক দৈন্যতা নেই। তাদের টাকা-পয়সার অভাব নেই। কিন্তু নগরের প্রতি, সাধারণ মানুষের চলাচলের অধিকারের প্রতি তাদের "মানসিক দৈন্যতা" আছে কি না - রাস্তা দখলের চিত্র দেখলে সেই প্রশ্নই ওঠে।
*প্রশাসনের ভূমিকা*
পৌরসভা ও প্রশাসনের দায়িত্ব সবার জন্য সমান আইন প্রয়োগ করা। হকার উচ্ছেদের সময় যে তৎপরতা দেখা যায়, প্রভাবশালী দখলদারদের ক্ষেত্রে সেই তৎপরতা না থাকলে জনমনে "চোখে কালো ঠুলি" পরার অভিযোগ ওঠা স্বাভাবিক। আইন সবার জন্য সমান হলে, ফুটপাতও সবার জন্য সমান থাকবে।
*নাগরিক দাবি*
শহর কারও একার নয়। কোটিপতি-রিকশাওয়ালা সবার। তাই নরসিংদীবাসীর দাবি:
1. সরকারি রাস্তা-ফুটপাত দখলমুক্ত করা হোক, সে যেই হোক না কেন।
2. হকারদের জন্য নির্দিষ্ট বিকল্প জায়গা বরাদ্দ দিয়ে পুনর্বাসন করা হোক, শুধু উচ্ছেদ নয়।
3. প্রভাব-প্রতিপত্তির ঊর্ধ্বে উঠে আইন সমভাবে প্রয়োগ করা হোক।
সাধারণ মানুষের অধিকার নিয়ে তামাশা বন্ধ হোক। শহরটা হোক সবার, শুধু বিলাসবহুল বাগানের জন্য নয়।