নাইক্ষ্যংছড়ি প্রতিনিধিঃ
নাইক্ষ্যংছড়ির বাইশারীতে ১৪ বছরের একজন শিশু শ্রমিক সহ অন্য এক শ্রমিকের বিরুদ্ধে রাবার চুরির অভিযোগ এনে মধ্যযুগীয় কায়দায় অমানবিক নির্যাতনের অভিযোগ উঠেছে ফোর এইচ গ্রুপের কয়েকজন কর্মকর্তার বিরুদ্ধে। ভুক্তভোগী পরিবারের দাবি, তাকে বাড়ি থেকে অফিসে ডেকে নিয়ে পানিতে মাথা ডুবিয়ে রাখা হয়, হাত-পা বেঁধে মারধর করা হয়।
অফিসে নির্যাতনের পরও ক্ষান্ত না হয়ে তাদের বাইশারী বাজারে নিয়ে মাথা ন্যাড়া করে, গলায় রাবারের মালা পরিয়ে পুরো বাজারে ঘোরানো হয়। পাশাপাশি নগদ টাকা জরিমানা করা হয় এবং সাদা স্ট্যাম্পে (ব্ল্যাঙ্ক স্ট্যাম্প) স্বাক্ষরও নেওয়া হয়েছে।
ভুক্তভোগী একজন শিশু শ্রমিক যার বয়স আনুমানিক ১৪ বছর। অন্য একজনের পরিবার দাবি করেছে, তাদের ছেলে কোনো অপরাধের সঙ্গে জড়িত নয়। তাদের ভাষ্য অনুযায়ী, যেদিন রাবার চুরির ঘটনা ঘটেছে, সেদিন ওই ছেলে বাড়ি থেকেই বের হয়নি।
পেটের দায়ে হোক বা অন্য যে কারণেই হোক, চুরি অবশ্যই একটি অপরাধ। তবে চুরির পেছনে থাকা অসাধু সিন্ডিকেট আরও বড় অপরাধী। তাদের বিরুদ্ধে কার্যকর ব্যবস্থা না নিয়ে কেবল অসহায় ১৪ বছরের শিশুকে চুরির অভিযোগে এভাবে নির্যাতন করা কতটা যুক্তিসঙ্গত?
উক্ত ১৪ বছরের শিশু শ্রমিক দাবি করছে সে জাফর কোম্পানির বাগানে চাকুরী করত।সেখান থেকে তাকে তিন জন ব্যক্তি জিম্মি করে ধরে নিয়ে আচ্ছে।
যদি তারা সত্যিই চুরি করে থাকে, তবে তাদের বিরুদ্ধে প্রচলিত আইন অনুযায়ী যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়া হোক।এলাকাবাসী দাবি প্রয়োজনে প্রশাসনের কাছে সোপর্দ করা যেত, অথবা পরিবারের উপস্থিতিতে ক্ষতিপূরণ ও মুচলেকার মাধ্যমে বিষয়টির সমাধান করা যেত। কিন্তু আইন নিজের হাতে তুলে নিয়ে যেভাবে তাদের ওপর অমানবিক নির্যাতন চালানো হয়েছে, তা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়।
যারা এ ধরনের অমানবিক নির্যাতনের সঙ্গে জড়িত, তাদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করার জন্য দাবি করছে ভুক্তভোগী পরিবার । এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট প্রশাসনের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করছি।
সংবাদ প্রেরক ঃ নাইক্ষ্যংছড়ি প্রতিনিধি।