অনলাইন ডেস্কঃ
দূষণের মাত্রা বেড়ে যাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে কমছে আমাদের ফুসফুসের কার্যক্ষমতা। ধূমপান, প্যাসিভ স্মোকিং, শহরের ধুলো-ধোঁয়া এবং বংশগত কারণ—সব মিলিয়ে শ্বাসযন্ত্র নীরবে দুর্বল হয়ে পড়ে। বেশিরভাগ সময়ই এই অবস্থা শুরুতে টের পাওয়া যায় না। পরে যখন শ্বাসকষ্ট, কাশি, অ্যাজমা বা সিওপিডির মতো দীর্ঘমেয়াদি সমস্যা দেখা দেয়, তখন অনেকটাই দেরি হয়ে যায়। তবে সুসংবাদ হলো, ঘরে বসেই মাত্র এক মিনিটের একটি সহজ পরীক্ষার মাধ্যমে আপনি জানতে পারেন আপনার ফুসফুস ঠিকভাবে কাজ করছে কি না।
কী এই পরীক্ষা?
ফুসফুসের সক্ষমতা বোঝার এই পরীক্ষাটি অত্যন্ত সহজ। প্রথমে শান্তভাবে এক জায়গায় বসে পড়ুন—পদ্মাসন নিলে আরও ভালো হয়। এরপর ধীরে একটি লম্বা শ্বাস নিন। শ্বাস নেওয়ার পর সঙ্গে সঙ্গে তা ছাড়বেন না।
এখন অন্তত ৬০ সেকেন্ড শ্বাস ধরে রাখুন। এক মিনিট পূর্ণ হলে ধীরে ধীরে নিঃশ্বাস ছাড়ুন।
সমস্যা আছে কি না বুঝবেন কীভাবে?
শুধু এক মিনিট শ্বাস ধরে রাখলেই মূল্যায়ন সম্পূর্ণ হবে না—সঙ্গে কিছু লক্ষণ খেয়াল করতে হবে:
শ্বাস ধরে রাখার সময় বুকে চাপ বা টান লাগছে কি না।
হালকা দমবন্ধ ভাব অনুভূত হচ্ছে কি না।
শ্বাস নিতে বা ছাড়তে অস্বস্তি হচ্ছে কি না।
নাক দিয়ে স্বাভাবিকভাবে শ্বাস নেওয়া সম্ভব হচ্ছে কি না।
মাঝপথে হাঁপ ধরা, কাশি কিংবা শ্বাসকষ্ট দেখা দিচ্ছে কি না।
এই লক্ষণগুলো দেখা দিলে ফুসফুসের কার্যক্ষমতা কমে যাওয়ার ইঙ্গিত হতে পারে।
এই পরীক্ষায় কী জানা যায়?
এ পরীক্ষার মাধ্যমে প্রাথমিকভাবে বোঝা যায় ফুসফুস শরীরে কতটা দক্ষতার সঙ্গে অক্সিজেন সরবরাহ করছে। ধীরে শ্বাস নিতে সমস্যা হলে শ্বাসনালী সংবেদনশীল হতে পারে, যা হাঁপানির লক্ষণ হতে পারে। বারবার কাশি হওয়া শ্বাসনালীতে প্রদাহের ইঙ্গিত দেয়।
নিঃশ্বাস ত্যাগ করতে অসুবিধা হলে ফুসফুসে প্রাথমিক ব্লকেজ থাকতে পারে—এর একটি বড় কারণ ধূমপান বা প্যাসিভ স্মোকিং।
পরীক্ষার সময় হাঁপ ধরা, শ্বাসকষ্ট বা অস্বস্তি দেখা দিলে এটিও সতর্কবার্তা।
এ সময় শ্বাস-প্রশ্বাস স্বাভাবিকের চেয়ে দ্রুত হয়ে গেলে তা ভালো সংকেত নয়। এমন হলে দেরি না করে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া জরুরি। সঙ্গে ধূমপান বা মদ্যপানের মতো অভ্যাস ত্যাগ করলে শ্বাসযন্ত্র সুরক্ষিত থাকে।