ইয়ামিন আহমেদ মহিপুর প্রতিনিধি
অভাব, অবহেলা আর পারিবারিক ভাঙনের করুণ বাস্তবতার মাঝেও পবিত্র কোরআনের আলোয় নিজেকে আলোকিত করে এক অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে এতিম শিশু মোসাঃ হাফিজা। মাত্র ৮ মাস ১৩ দিনে পবিত্র কোরআনের সম্পূর্ণ হিফজ সম্পন্ন করে সে তাক লাগিয়ে দিয়েছে শিক্ষক, সহপাঠীসহ সকলকে।
হাফিজার জীবন কাহিনি অত্যন্ত বেদনাদায়ক । পারিবারিক নানা সংকটের এক পর্যায়ে তার বাবা-মায়ের সংসার ভেঙে যায়। বাবা একসময় তাদের ছেড়ে চলে যান। বিচ্ছেদ, দারিদ্র্য ও সামাজিক চাপের মধ্যে পড়ে মানসিকভাবে ভেঙে পড়েন তার মা। দীর্ঘদিনের নানা দুশ্চিন্তা ও ট্রমা থেকে মায়ের মাথায় বাসা বাঁধে বিভিন্ন রোগ। এক পর্যায়ে অসুস্থ মা অন্যত্র নতুন করে সংসার বাঁধতে বাধ্য হন। তখন শিশু হাফিজা কার্যত হয়ে পড়ে অসহায় ও অভিভাবকহীন।
এই সংকটময় সময়ে হাফিজার পাশে দাঁড়ান তার খালা (মায়ের বোন)। তিনিই মানবিক দায়িত্ববোধ থেকে শিশুটিকে ভর্তি করিয়ে দেন আলিপুর আদর্শ বালিকা মাদ্রাসায়। শুরুতে কিছুদিন খালাই হাফিজার ভরণ-পোষণের দায়িত্ব পালন করলেও পরবর্তীতে নানা বাস্তবতায় তিনিও নিয়মিত খোঁজ নিতে পারেননি।
বর্তমানে হাফিজার থাকা, খাওয়া, পড়াশোনাসহ সকল ব্যয়ভার বহন করছে -আলিপুর আদর্শ বালিকা মাদ্রাসা কর্তৃপক্ষ । য়শিক্ষক ও পরিচালকদের আন্তরিক তত্ত্বাবধানে অদম্য মনোবল নিয়ে সে এগিয়ে চলে কোরআনের পথে।
মাদ্রাসাটির পরিচালক মুফতি সাইদুর রহমান সাদী বলেন, ‘এতিম এই শিশুটি মাত্র ৮ মাস ১৩ দিনে পবিত্র কোরআনের হিফজ সম্পন্ন করেছে—এটি নিঃসন্দেহে এক বিস্ময়কর ও তাক লাগানো অর্জন। তার এই সাফল্য আমাদের সকলের জন্য অনুপ্রেরণা। আমরা তার জন্য দোয়া করি, আল্লাহ যেন তাকে কোরআনের আলোয় একজন পরিপূর্ণ মানুষ হিসেবে গড়ে তোলেন।
হাফিজার এই অর্জন শুধু একটি ব্যক্তিগত সাফল্য নয়, বরং সমাজের জন্য এক শক্ত বার্তা। অনুকূল পরিবেশ, ভালোবাসা ও সঠিক দিকনির্দেশনা পেলে এতিম ও অবহেলিত শিশুরাও অসাধারণ কীর্তি গড়তে পারে—হাফিজা তার জীবন্ত প্রমাণ।
আজ মোসাঃ হাফিজা শুধু একজন কোরআনের হাফেজাই নয়, সে হয়ে উঠেছে হাজারো অসহায় শিশুর আশার প্রতীক, ঈমানী শক্তি ও অধ্যবসায়ের এক উজ্জ্বল উদাহরণ।