তালাত মাহামুদ, বিশেষ প্রতিনিধি
দীর্ঘদিন আলোচিত তনু ধর্ষণ মামলায় নতুন করে গতি এসেছে পুনঃতদন্তের মাধ্যমে। গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে সম্প্রতি তিনজন সন্দেহভাজন আসামিকে গ্রেফতার করা হয় এবং তাদের বিরুদ্ধে বৈজ্ঞানিক পরীক্ষাসহ বিভিন্ন প্রমাণ সংগ্রহ করা হয়।
তদন্ত-সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, প্রাথমিকভাবে গ্রেফতারকৃতদের শারীরিক নমুনা পরীক্ষা করে ঘটনার সঙ্গে সংশ্লিষ্টতার ইঙ্গিত পাওয়া যায়। তবে পূর্ববর্তী সময়ে করা ময়নাতদন্ত ও তদন্ত প্রতিবেদনে ভিন্নমত উঠে আসে, যা নিয়ে শুরু থেকেই নানা প্রশ্ন ও বিতর্ক ছিল। অভিযোগ রয়েছে, প্রভাবশালী একটি মহল সেই সময়ের তদন্ত প্রক্রিয়ায় হস্তক্ষেপ করে প্রকৃত তথ্য গোপন করার চেষ্টা করেছিল এবং ভিকটিমকে সামাজিকভাবে হেয় প্রতিপন্ন করার অপচেষ্টাও চালানো হয়।
ঘটনার প্রায় এক দশক পর নতুন করে মামলাটি পুনঃতদন্তের নির্দেশনা দেওয়া হলে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ পুনরায় আলামত পরীক্ষা ও তথ্য-উপাত্ত যাচাই শুরু করে। এই প্রক্রিয়ায় নতুন করে গ্রেফতার হওয়া আসামিরা জিজ্ঞাসাবাদে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য প্রদান করেছে বলে জানা গেছে।
সরকারের উচ্চপর্যায়ের নির্দেশনার পর দ্রুততার সঙ্গে তদন্ত কার্যক্রম এগিয়ে নেওয়া হচ্ছে। এ বিষয়ে তারেক রহমান এর নির্দেশনার কথাও বিভিন্ন মহলে আলোচিত হচ্ছে, যার প্রেক্ষিতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী নতুন উদ্যমে কাজ শুরু করেছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র দাবি করেছে।
আইন বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এতদিন পর হলেও সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে সত্য উদঘাটন এবং দোষীদের আইনের আওতায় আনা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। একই সঙ্গে ভিকটিম ও তার পরিবারের প্রতি ন্যায়বিচার নিশ্চিত করাই এখন প্রধান লক্ষ্য হওয়া উচিত।
এ ঘটনায় নতুন করে জনমনে আশার সঞ্চার হলেও, চূড়ান্ত বিচারিক প্রক্রিয়ার মাধ্যমেই প্রকৃত সত্য প্রতিষ্ঠিত হবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।