মো:আজিজুল হাকিম
স্টাফ রিপোর্টার:
নাটোরের সিংড়া উপজেলার শেরকোল আগপাড়া গ্রামে নিখোঁজের ১৫ দিন পর ৭৫ বছর বয়সী বৃদ্ধা মারিয়া বেগম শরীফার বস্তাবন্দি গলিত মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। একই সাথে এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের মূল রহস্য উদঘাটন করা হয়েছে। আপন মেঝ ছেলে ও নাতি মিলে বৃদ্ধাকে শ্বাসরোধ করে হত্যা করার পর লাশ গুমের উদ্দেশ্যে ডোবায় ফেলে দিয়েছিল বলে জানিয়েছে পুলিশ।
আজ বুধবার (১০ জুন) দুপুরে সিংড়া থানা চত্বরে আয়োজিত এক প্রেস ব্রিফিংয়ে গণমাধ্যমকর্মীদের সামনে এসব তথ্য জানান নাটোরের জেলা পুলিশ সুপার (এসপি) মোহাম্মদ শরিফুল হক।
হত্যাকাণ্ডে জড়িত থাকার অভিযোগে নিহতের মেঝ ছেলে জনাব আলী (৫৫) এবং নাতি আলামিন (২৫)-কে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত মারিয়া বেগম ওই গ্রামের মৃত মোজাহার আলীর স্ত্রী।
প্রেস ব্রিফিংয়ে পুলিশ সুপার জানান, পারিবারিক কলহের জেরে গত ২৫ মে মেঝ ছেলে জনাব আলী তার বৃদ্ধা মা মারিয়া বেগমকে হত্যা করেন। পরে অপরাধ ধামাচাপা দিতে নিজের ছেলে (নিহতের নাতি) আলামিনকে সাথে নিয়ে লাশটি বস্তাবন্দি করেন। এরপর রাতের আঁধারে বাড়ির পাশের একটি ডোবার কচুরিপানার ভেতর লাশটি লুকিয়ে রাখা হয়।
পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, স্বামীর মৃত্যুর পর থেকে মারিয়া বেগম তার বড় ছেলে শহিদুল ইসলামের বাড়িতেই থাকতেন। গত ২৫ মে তিনি হঠাৎ নিখোঁজ হন। স্বজনরা বিভিন্ন জায়গায় খোঁজাখুঁজি করে তার সন্ধান না পেয়ে গত ৬ জুন নিহতের মেয়ে মর্জিনা বেগম সিংড়া থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেন।
গতকাল মঙ্গলবার বিকেলে স্থানীয়রা বাড়ির পাশের ডোবার কচুরিপানার মধ্যে একটি বস্তা ভাসতে দেখে পুলিশে খবর দেয়। পরে পুলিশ এসে বস্তাবন্দি অবস্থায় বৃদ্ধার পচনশীল মরদেহ উদ্ধার করে।
এর আগে মায়ের নিখোঁজের বিষয়ে বড় ছেলে শহিদুল ইসলামের উদাসীনতা দেখে পরিবারের অন্য সদস্যদের মনে সন্দেহের দানা বাঁধে। জিজ্ঞাসাবাদের জন্য প্রথমে পুলিশ বড় ছেলে শহিদুল ও তার স্ত্রী খাদিজা বেগমকে আটক করে। তবে নিবিড় তদন্ত ও জিজ্ঞাসাবাদের একপর্যায়ে মেঝ ছেলে জনাব আলী ও নাতি আলামিনের সরাসরি জড়িত থাকার বিষয়টি বেরিয়ে আসে এবং পুলিশ তাদের গ্রেপ্তার করে।