গৌরনদী (বরিশাল) প্রতিনিধি | এস এম নজরুল ইসলাম
১০ লাখ টাকার বিনিময়ে ইতালিতে পাঠানোর প্রলোভন দেখিয়ে অন্তত এক কোটি টাকা হাতিয়ে নিয়ে লাপাত্তা হয়েছেন জাকির খান সাগর নামে এক ব্যক্তি। তিনি ২০২৪ সালের জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বরিশাল-৬ আসনের একজন প্রার্থী ছিলেন বলে জানা গেছে।
অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, ঢাকার খিলগাঁও এলাকায় “দিগন্ত সিটি লিমিটেড” নামে একটি প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে আকর্ষণীয় বিজ্ঞাপন দিয়ে সাধারণ মানুষের মধ্যে বিদেশ যাওয়ার স্বপ্ন তৈরি করেন জাকির খান সাগর। প্রতিষ্ঠানটির অফিস ছিল ৪৬/৬, হক টাওয়ার (লিফট-৫), বাগানবাড়ী, দক্ষিণ বনশ্রী, খিলগাঁও, ঢাকা-১২১৯ ঠিকানায়।
ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, সহজ-সরল গ্রামীণ মানুষদের টার্গেট করে প্রতিজনের কাছ থেকে প্রায় ১০ লাখ টাকা করে নিয়ে মোট প্রায় এক কোটি টাকা আত্মসাৎ করা হয়। ছয় মাসের মধ্যে বিদেশ পাঠানোর প্রতিশ্রুতি দেওয়া হলেও নির্ধারিত সময়ের আগেই অফিস বন্ধ করে উধাও হয়ে যান অভিযুক্ত।
এ ঘটনায় বহু পরিবার সর্বস্বান্ত হয়ে পড়েছে। অনেকেই ভিটেমাটি, স্বর্ণালংকার বিক্রি করে টাকা জোগাড় করেছিলেন বলে জানা গেছে। বর্তমানে তারা মানবেতর জীবনযাপন করছেন।
ভুক্তভোগীরা জানান, জাকির খান সাগরের গ্রামের বাড়ি বরিশালের বাকেরগঞ্জ উপজেলার নিয়ামতী ইউনিয়নের ডহরখোলা গ্রামে হলেও তিনি নারায়ণগঞ্জের আড়াইহাজার পৌরসভার একটি ঠিকানা ব্যবহার করে দীর্ঘদিন ধরাছোঁয়ার বাইরে ছিলেন।
এ বিষয়ে খিলগাঁও থানায় মামলা (নং-৩৪, তারিখ: ১১-০২-২০২৫ ইং) দায়ের করা হয়েছে। মামলায় দণ্ডবিধির ৪০৬/৪২০/৫০৬ ধারায় অভিযোগ আনা হয়েছে। এছাড়াও তার সহযোগী হিসেবে তার বাবা চান শরিফ (শরিফ খান), স্ত্রী সাথী আক্তার, আত্মীয় মোঃ বিল্লাল, শ্বশুর মোঃ মালেক, শাশুড়ি কহিনুর এবং বড় ভাই মোঃ জামাল খানের নাম উল্লেখ করা হয়েছে।
পুলিশ সূত্রে জানা যায়, এক পর্যায়ে জাকির খান সাগরকে গ্রেফতার করে আদালতে সোপর্দ করা হয়। পরে তিনি ভুক্তভোগীদের টাকা ফেরত দেওয়ার শর্তে ২৫ জানুয়ারি ২০২৫ তারিখে তিন মাসের জামিন পান। তবে নির্ধারিত সময় পার হলেও তিনি টাকা ফেরত দেননি। ফলে তার বিরুদ্ধে পুনরায় গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি হয়েছে।
তবে এখন পর্যন্ত তাকে আটক করতে পারেনি আইনশৃঙ্খলা বাহিনী।
এদিকে, প্রতারিত ভুক্তভোগীরা ন্যায়বিচার ও অর্থ ফেরতের দাবিতে প্রধানমন্ত্রীর হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন। তারা দ্রুত অভিযুক্তদের গ্রেপ্তার ও কঠোর শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।