• মঙ্গলবার, ০৩ নভেম্বর ২০২৬, ০৪:০০ অপরাহ্ন
Headline
সুস্থ শিশুকে প্রতিবন্ধী সাজিয়ে জেলা পরিষদের প্রশাসককে ধোকা :মিঠাপুকুর পায়রাবন্দ বুদ্ধি প্রতিবন্ধী বিদ্যালয় নজিরবিহীন জালিয়াতি ‎ মডার্ন মোড় থেকে ঘাঘট নদীর তীর—ব্যবসায়ী অপহরণে চাঁদাবাজির অভিযোগ, গ্রেফতার পপি বৈরাগীগঞ্জে ফ্লাইওভার নির্মাণের দাবি দ্রুত বাস্তবায়ন চান এলাকাবাসী ও ব্যবসায়ীরা ঠাকুরগাঁও জেলার পীরগঞ্জ উপজেলা সাব-রেজিস্ট্রি অফিসে নতুন সাব-রেজিস্ট্রার হিসেবে যোগদান করেছেন বিশ্বনাথে দশঘর ইউপি চেয়ারম্যান পদপ্রার্থী মধু মিয়ার মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত আশুলিয়ায় শ্রমিক পুলিশ সংঘর্ষ, টিয়ারশেল ও সাউন্ড গ্র্যানেড নিক্ষেপ গোপালগঞ্জে ১৪ শিক্ষক, পরীক্ষার্থী মাত্র একজন; এইচএসসিতে পাসের হার শূন্য পরাজিত শক্তি দেশ অস্থিতিশীল করতে পার্শ্ববর্তী দেশ থেকে উসকানি: সিলেটে রিজভী  ১৯ বছর পর বই হাতে, এইচএসসিতে সফল গৃহিণী আফরোজা আক্তার মেরীনরসিংদীতে তাহিরপুর শাহ আরেফিন মাজার নিয়ে দুই পক্ষ মুখোমুখি প্রশাসন নীরব।

চাচাতো-খালাতো-মামাতো বোনকে বিয়ে করলে কী হয়, সতর্কবার্তা দিলেন গবেষকরা

অনলাইন ডেস্কঃ / ১৫৬ Time View
Update : মঙ্গলবার, ২ জুন, ২০২৬

অনলাইন ডেস্কঃ

চাচাতো বা খালাতো ভাইবোনের মধ্যে বিয়ে বহু সমাজে দীর্ঘদিনের প্রচলিত রীতি হিসেবে বিবেচিত হলেও সাম্প্রতিক গবেষণা বলছে, এ ধরনের পারিবারিক বিয়ের সঙ্গে ভবিষ্যৎ প্রজন্মের কিছু স্বাস্থ্যঝুঁকি যুক্ত থাকতে পারে।

যুক্তরাজ্যের ব্র্যাডফোর্ড শহরে পরিচালিত দীর্ঘমেয়াদি এক গবেষণায় দেখা গেছে, ফার্স্ট কাজিন-অর্থাৎ চাচাতো বা খালাতো ভাইবোনের মধ্যে বিয়ের ক্ষেত্রে সন্তানদের মধ্যে কিছু জেনেটিক ও বিকাশজনিত সমস্যার ঝুঁকি তুলনামূলকভাবে বেশি হতে পারে।

গবেষকদের ব্যাখ্যা অনুযায়ী, জিনগত ত্রুটি উভয় অভিভাবকের কাছ থেকে একইভাবে সন্তানের শরীরে প্রবেশ করলে নির্দিষ্ট কিছু বংশগত রোগ প্রকাশ পেতে পারে। যেহেতু ঘনিষ্ঠ আত্মীয়দের মধ্যে একই ধরনের জিন বহনের সম্ভাবনা বেশি, তাই এ ক্ষেত্রে ঝুঁকিও কিছুটা বৃদ্ধি পায়। বিশেষজ্ঞদের মতে, সাধারণ জনসংখ্যায় বংশগত রোগের ঝুঁকি যেখানে প্রায় ৩ শতাংশ, সেখানে ফার্স্ট কাজিন দম্পতির ক্ষেত্রে তা প্রায় ৬ শতাংশ পর্যন্ত হতে পারে।

‘বর্ন ইন ব্র্যাডফোর্ড’ শীর্ষক ওই গবেষণায় ১৩ হাজারের বেশি শিশুকে দীর্ঘ সময় ধরে পর্যবেক্ষণ করা হয়। এতে শিশুদের জন্মগত স্বাস্থ্য, ভাষা বিকাশ, শিক্ষা অগ্রগতি এবং চিকিৎসাসেবার প্রয়োজনসহ বিভিন্ন সূচক বিশ্লেষণ করা হয়।

গবেষণায় দেখা যায়, ফার্স্ট কাজিন দম্পতির সন্তানদের মধ্যে ভাষা বিকাশে কিছুটা বিলম্ব এবং নির্ধারিত বিকাশগত মাইলফলকে পৌঁছাতে দেরি হওয়ার প্রবণতা তুলনামূলকভাবে বেশি। পাশাপাশি এসব শিশু চিকিৎসকের কাছে যাওয়ার হারও কিছুটা বেশি ছিল। তবে গবেষকরা স্পষ্ট করেছেন, এর অর্থ এই নয় যে সব ক্ষেত্রেই এমন দম্পতির সন্তানদের সমস্যা হবেই।

বিশেষজ্ঞদের একাংশের মতে, শুধু কাজিন বিয়েকেই একমাত্র কারণ হিসেবে দেখা ঠিক হবে না। একই সম্প্রদায়ের মধ্যে প্রজন্মের পর প্রজন্ম বিয়ের কারণে কিছু নির্দিষ্ট জিনগত বৈশিষ্ট্য বেশি ছড়িয়ে পড়তে পারে, যাকে ‘এন্ডোগামি’ বলা হয়। এতে রক্তসম্পর্ক না থাকলেও একই ধরনের জিনগত ঝুঁকি তৈরি হতে পারে।

ইউরোপের কয়েকটি দেশ ইতোমধ্যে এ ধরনের বিয়েকে সীমিত বা নিষিদ্ধ করার উদ্যোগ নিয়েছে। নরওয়ে কাজিন বিয়ে নিষিদ্ধ করেছে এবং সুইডেনও একই ধরনের পদক্ষেপ বিবেচনা করছে। অন্যদিকে যুক্তরাজ্যে এখনো কোনো নিষেধাজ্ঞা না থাকলেও জেনেটিক কাউন্সেলিংয়ের মাধ্যমে দম্পতিদের ঝুঁকি সম্পর্কে সচেতন করার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।

গবেষকদের মতে, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক প্রথার পাশাপাশি ব্যক্তিগত সিদ্ধান্তের ক্ষেত্রে জেনেটিক ঝুঁকি সম্পর্কে সচেতনতা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। বিশেষজ্ঞরা পরামর্শ দেন, বিয়ের আগে সম্ভাব্য স্বাস্থ্যঝুঁকি সম্পর্কে জানা এবং প্রয়োজন হলে পরামর্শ নেওয়াই সবচেয়ে দায়িত্বশীল পদক্ষেপ।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category