কে এম. ইয়ামিন আহমেদ| কলাপাড়া (পটুয়াখালী) প্রতিনিধি
একটি আদর্শ সমাজ ও জবাবদিহিতামূলক জনপদ গঠনে প্রয়োজন সৎ, বলিষ্ঠ ও জনদরদী নেতৃত্ব। কুয়াকাটা পৌরসভার ১ নং ওয়ার্ড নিয়ে তেমনই এক অনন্য ও ব্যতিক্রমী স্বপ্নের কথা জানিয়েছেন এলাকার কৃতিসন্তান জহিরুল। দরিদ্র পরিবারের সন্তান হলেও মানুষের পাশে দাঁড়ানোর জন্য যে শুধু টাকা নয়—দৃঢ় ইচ্ছাশক্তি, সততা আর একটি সুন্দর মনই যথেষ্ট, তা মনেপ্রাণে বিশ্বাস করেন তিনি। নিজের মেধা ও সামর্থ্যের সবটুকু বিলিয়ে দিয়ে আজীবন গরিব, দুঃখী, অসহায় ও মেহনতি মানুষের পাশে থাকার অঙ্গীকার ব্যক্ত করেছেন এই তরুণ।
এক বিশেষ সাক্ষাৎকারে জহিরুল বলেন, আল্লাহ তাআলা যদি আমাকে অঢেল সম্পদ দিতেন, তবে আমি দেখিয়ে দিতাম প্রকৃত অর্থে মানুষের সেবা কীভাবে করতে হয় এবং মানুষের অধিকার কীভাবে নিশ্চিত করতে হয়। কিন্তু যা পাইনি, তা নিয়ে আফসোস করে বসে থাকতে চাই না। যদি কোনোদিন জীবনে সফল হতে পারি, ইনশাআল্লাহ মানুষের কল্যাণেই নিজেকে উৎসর্গ করব।
ভবিষ্যতের পরিকল্পনা ও স্বপ্নের কথা জানাতে গিয়ে তিনি বলেন, আল্লাহ তাআলা যদি চান এবং সুযোগ করে দেন, তাহলে আমি কুয়াকাটা পৌরসভা ১ নং ওয়ার্ড থেকে আগামীতে নির্বাচন করব। আমি জীবনে একবারই নির্বাচন করতে চাই। যদি জনগণের ভালোবাসায় নির্বাচিত হতে পারি, তাহলে এমনভাবে কাজ করব যেন পরবর্তীতে আমাকে আর মানুষের কাছে গিয়ে ভোট চাইতে না হয়; জনগণ নিজেরাই ভালোবেসে আবার আমাকে দাঁড় করাবে।
তিনি আরও বলেন, আমি চাই ১ নং ওয়ার্ড এমন একটি আদর্শ ও মডেল ওয়ার্ড হোক, যা থেকে কুয়াকাটা পৌরসভার বাকি ৮টি ওয়ার্ড শিক্ষা নেবে। আমার ওয়ার্ডে কোনো ধরনের দুর্নীতি, অনিয়ম বা জনগণের অধিকার নিয়ে ছিনিমিনি খেলতে দেওয়া হবে না। সরকারি চাল বা অনুদান যদি ১০ কেজি আসে, তবে সাধারণ মানুষ ১০ কেজিই পাবে। ১০ লিটারের বালতি দিয়ে মেপে কম চাল দেওয়ার মতো কোনো প্রতারণার সুযোগ এখানে থাকবে না। সঠিক ওজনের মেশিনে মেপে মানুষের প্রাপ্য শতভাগ বুঝিয়ে দেওয়া হবে। জনগণের হক কেউ মারতে পারবে না।
ত্রাণ বা সরকারের যেকোনো সহায়তার বিষয়ে তিনি দৃঢ়ভাবে বলেন, “রিলিফের চাল হোক বা সরকারের যেকোনো সাহায্য, আমি নিজেই মানুষের বাড়ি বাড়ি গিয়ে পৌঁছে দেওয়ার চেষ্টা করব, যাতে মাঝপথে কেউ কোনো অনিয়ম বা প্রতারণা করতে না পারে। আমি যদি কাউন্সিলর হতে পারি, তবে আমার পরিবার বা আমার কোনো আত্মীয়-স্বজন কারও ওপর ক্ষমতার দাপট দেখাতে পারবে না। আইন সবার জন্য সমান হবে। আমার আপনজনও যদি অন্যায় করে, সবার আগে আমি নিজেই তার বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেব।
পর্যটন নগরী কুয়াকাটার সাথে মিল রেখে ১ নং ওয়ার্ডকে সাজানোর পরিকল্পনা নিয়ে তিনি জানান, রাস্তাঘাট, ড্রেনেজ ব্যবস্থা, রাস্তার পাশের আগাছা পরিষ্কার, পরিচ্ছন্নতা, আলো ও পরিবেশের ওপর সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়া হবে। ১ নং ওয়ার্ডকে এমন একটি দৃষ্টিনন্দন ও সবুজ এলাকায় পরিণত করা হবে, যা দেখতে দূর-দূরান্ত থেকে মানুষ ছুটে আসবে। এছাড়া এলাকার যেকোনো সালিশ-বিচারের ক্ষেত্রে ধনী-দরিদ্রের বৈষম্য দূর করে শতভাগ ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা করা হবে এবং সালিশের নামে কারও কাছ থেকে একটি টাকাও নেওয়া হবে না।
নির্বাচনী সংস্কৃতি নিয়ে জহিরুল স্পষ্ট ভাষায় বলেন, “আমি পরিষ্কার করে বলতে চাই, আমি গরিবের সন্তান। মানুষের ভোট কেনার মতো টাকা আমার কাছে নেই। কাউকে ৫ টাকার চা খাইয়ে আমি ভোট চাইব না। যদি মানুষের জন্য সত্যিকারের কাজ করতে পারি, তবেই জনগণ আমাকে ভোট দেবে। কারণ ভোট টাকা দিয়ে নয়, বিশ্বাস, সততা আর ভালোবাসা দিয়ে অর্জন করতে হয়।
প্রতিশ্রুতির চেয়ে কাজে বিশ্বাসী এই স্বপ্নবাজ তরুণ চান এমন কিছু করে যেতে, যেন মৃত্যুর পরও মানুষ তাকে আজীবন স্মরণে রাখে। সবশেষে নিজের রাজনৈতিক দর্শন তুলে ধরে জহিরুল বলেন—
আমার স্বপ্ন ক্ষমতা নয়, সেবা।
আমার লক্ষ্য পদ নয়, মানুষের ভালোবাসা।
আমার রাজনীতি হবে সততা, ন্যায়বিচার ও মানুষের অধিকার প্রতিষ্ঠার রাজনীতি।”
কুয়াকাটা পৌরসভার ১ নং ওয়ার্ডকে সারা বাংলাদেশের মধ্যে একটি অনুকরণীয় দৃষ্টান্ত ও মডেল ওয়ার্ড হিসেবে গড়ে তুলতে এলাকার সর্বস্তরের মানুষের কাছে দোয়া ও সহযোগিতা চেয়েছেন জহিরুল।