বিশেষ প্রতিনিধি রংপুর।
রংপুরের মিঠাপুকুর
উপজেলার ৩ নম্বর পায়রাবন্দ ইউনিয়নের গুরুত্বপূর্ণ বাজারগুলোর অন্যতম বৈরাগীগঞ্জ। বাজারের মধ্য দিয়ে চলে গেছে ঢাকা-রংপুর মহাসড়ক। গুরুত্বপূর্ণ এই মহাসড়কের পাশে রয়েছে চৌধুরী উচ্চ বিদ্যালয়সহ বিভিন্ন ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান। ফলে প্রতিদিনই এ এলাকায় পথচারী, শিক্ষার্থী, যাত্রী ও বিভিন্ন ধরনের যানবাহনের চলাচল থাকে উল্লেখযোগ্য পরিমাণে।
কিন্তু পর্যাপ্ত ও সুনির্দিষ্ট বাস-অটোরিকশা স্ট্যান্ড না থাকায় মহাসড়কের সার্ভিস লেন ও আশপাশের বিভিন্ন স্থানে যানবাহন দাঁড় করিয়ে রাখার অভিযোগ দীর্ঘদিনের। বিশেষ করে সন্ধ্যার পর যানবাহনের চাপ বেড়ে গেলে সার্ভিস লেন ও মহাসড়কের বিভিন্ন অংশে যানবাহন অবস্থান করায় স্বাভাবিক চলাচল ব্যাহত হয় বলে অভিযোগ স্থানীয়দের।
যানজটের সঙ্গে যুক্ত হচ্ছে নতুন স্থাপনা নির্মাণের অভিযোগ
পুরোনো যানজট সমস্যার মধ্যেই চৌধুরী উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রাচীর ঘেঁষে নতুন করে দোকান বা স্থাপনা নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয়দের আশঙ্কা, সেখানে স্থাপনা নির্মাণ করা হলে পথচারীদের চলাচলের জায়গা আরও সংকুচিত হবে।
প্রশ্ন হচ্ছে—একটি ব্যস্ত মহাসড়কের পাশে যেখানে বর্তমানে যানজট ও পথচারীদের নিরাপদ চলাচল নিয়ে সমস্যা রয়েছে, সেখানে নতুন স্থাপনা নির্মাণের অনুমতি বা সুযোগ দেওয়া হলে পরিস্থিতি কোন দিকে যাবে?
একদিকে যানবাহন দাঁড়িয়ে থাকছে, অন্যদিকে যদি মানুষের চলাচলের জায়গা সংকুচিত হয়, তাহলে যানবাহন ও পথচারী উভয়কেই একই জায়গা ব্যবহার করতে হতে পারে। এতে যানজটের পাশাপাশি সড়ক দুর্ঘটনার ঝুঁকিও বাড়তে পারে বলে মনে করছেন স্থানীয়রা।
আইনের দৃষ্টিতে বিষয়টি কেন গুরুত্বপূর্ণ
সড়ক পরিবহণ আইন, ২০১৮-এর ধারা ৪৭-এ নির্ধারিত স্থান ছাড়া মোটরযান পার্কিং এবং নির্ধারিত স্থান ও সময়ের বাইরে যাত্রী ওঠানামার জন্য যানবাহন থামানোর বিষয়ে বিধান রয়েছে।
অন্যদিকে ধারা ৪৯-এর সাধারণ নির্দেশনায় সড়ক, মহাসড়ক, ফুটপাতসহ চলাচলের জায়গায় মালামাল, দোকান বা অন্য কোনোভাবে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি না করার বিষয়টি উল্লেখ করা হয়েছে।
তাই বৈরাগীগঞ্জে যদি মহাসড়কের সার্ভিস লেন, ফুটপাত বা পথচারীদের চলাচলের জায়গা দখল করে কোনো স্থাপনা নির্মাণ করা হয়ে থাকে বা নির্মাণের ফলে জনসাধারণের চলাচলে বাধা সৃষ্টি হয়, তাহলে বিষয়টি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সরেজমিন তদন্তের মাধ্যমে যাচাই করা প্রয়োজন।
স্থানীয় বাজারে ব্যবসা প্রতিষ্ঠান ও প্রয়োজনীয় অবকাঠামো থাকা স্বাভাবিক। কিন্তু কোনো স্থাপনা যদি মানুষের চলাচল, সড়ক নিরাপত্তা ও যানবাহনের স্বাভাবিক গতিপথকে সংকুচিত করে, তাহলে সেটি শুধু একটি দোকান নির্মাণের বিষয় থাকে না—এটি জনস্বার্থ ও সড়ক ব্যবস্থাপনার বিষয় হয়ে দাঁড়ায়।
বৈরাগীগঞ্জের ক্ষেত্রে তাই শুধু নতুন স্থাপনা নির্মাণ বন্ধ করাই দীর্ঘমেয়াদি সমাধান নয়। একই সঙ্গে বাজারের যানজটের মূল কারণগুলোও চিহ্নিত করা প্রয়োজন।
প্রথমত, কোথায় বাস ও অটোরিকশা দাঁড়াবে তা নির্দিষ্ট করা দরকার। দ্বিতীয়ত, সার্ভিস লেনকে অবৈধ পার্কিং ও দখলমুক্ত রাখতে হবে। তৃতীয়ত, পথচারীদের জন্য নির্ধারিত জায়গা নিশ্চিত করতে হবে। পাশাপাশি স্কুলের সামনে শিক্ষার্থী ও পথচারীদের নিরাপদ চলাচলের বিষয়টিও গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করা জরুরি।
স্থানীয়দের দাবি, মহাসড়কের সার্ভিস লেন, ফুটপাত কিংবা পথচারীদের চলাচলের জায়গা দখল করে কোনো স্থাপনা নির্মাণের সুযোগ দেওয়া উচিত নয়। নতুন করে দোকান বা স্থাপনা নির্মাণের অভিযোগ থাকলে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে সরেজমিন তদন্ত করে প্রকৃত অবস্থা নির্ধারণ করা প্রয়োজন।
একই সঙ্গে বৈরাগীগঞ্জ বাজারের দীর্ঘদিনের যানজট নিরসনে সুনির্দিষ্ট বাস ও অটোরিকশা স্ট্যান্ড নির্ধারণ, সার্ভিস লেন দখলমুক্ত রাখা এবং মহাসড়কে নির্বিঘ্ন যান চলাচল নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা।
বৈরাগীগঞ্জের যানজটকে শুধু যানবাহনের সংখ্যা দিয়ে ব্যাখ্যা করলে সমস্যার পূর্ণ চিত্র পাওয়া যাবে না। অপরিকল্পিত পার্কিং, নির্দিষ্ট স্ট্যান্ডের অভাব, পথচারীদের জায়গা সংকুচিত হওয়া এবং মহাসড়কের পাশে অনিয়ন্ত্রিত স্থাপনা—সবকিছু মিলেই পরিস্থিতিকে জটিল করে তুলতে পারে।
তাই কোনো পক্ষের অভিযোগ বা বক্তব্যের ওপর নির্ভর না করে সংশ্লিষ্ট প্রশাসন ও সড়ক কর্তৃপক্ষের সরেজমিন তদন্ত জরুরি। তদন্তে যদি দেখা যায় কোনো স্থাপনা আইন বা অনুমোদিত সীমানা লঙ্ঘন করে নির্মিত হচ্ছে এবং এতে জনসাধারণের চলাচলে বাধা সৃষ্টি হচ্ছে, তাহলে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া প্রয়োজন।
জনস্বার্থে বৈরাগীগঞ্জ বাজারের সার্ভিস লেন, ফুটপাত ও মহাসড়কের নিরাপদ ব্যবহার নিশ্চিত করার পাশাপাশি দীর্ঘমেয়াদি যানজট নিরসনে সমন্বিত পরিকল্পনা গ্রহণ এখন সময়ের দাবি।