কুমিল্লা প্রতিনিধি।
কুমিল্লার সীমান্তবর্তী উপজেলা বুড়িচং।’সীমান্ত ঘেঁষা’ উপজেলা হওয়ায় হাত বাড়ালেই মিলছে মাদক।মাদকের সহজলভ্যতা, ও নিরাপদ রোড হওয়ায় বুড়িচং পৌরসভার পূর্ণমতি গ্রাম এখন মাদকের হটস্পট। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর নজরদারি সত্ত্বেও নতুন সিন্ডিকেট গড়ে তুলে আবারও সক্রিয় হয়ে উঠেছে মাদক কারবারিরা। রাজনৈতিক ও সামাজিক পটপরিবর্তনের সুবাদে কিছু সময় নীরব থাকার পর তারা বর্তমানে নিত্যনতুন কৌশলে সীমান্ত থেকে গাঁজা, ইয়াবা, কৌশলে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর চোখ ফাঁকি দিয়ে দেশের বিভিন্ন জেলায় পৌঁছে দিচ্ছে।
গত ৪ আগষ্ট ২০২৬ রাত ১১.৩০ মিনিটে বুড়িচং থানার এসআই জিয়া উদ্দিন গোপন সংবাদের ভিত্তিতে মাদক বিরোধী অভিযান পরিচালনা করে পূর্ণমতি গ্রামের চিহ্নিত মাদক কারবারি শাহাজান ওরফে সাজু ও তার সহযোগী (প্যাকিং) স্বপনকে ১৪ কেজি গাঁজা সহ গ্রেফতার করে।বর্তমানে মামলা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে বলে জানিয়েছেন এসআই জিয়া উদ্দিন।এই ঘটনায় এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।
স্থানীয়দের মতে একসময় পূর্ণমতি গ্রামে সাবেক মেম্বার আমিনুল ইসলামের ছত্রছায়ায় মাদক চোরাচালান পরিচালিত হতো।জনপ্রতিনিধির পরিচয়ের আড়ালে আমিনুল ইসলাম ও তার ভাই জাকির শক্তিশালী সিন্ডিকেট গড়ে তুলেছিলেন। তাদের গাঁজা দেশের বিভিন্ন জায়গায় বহন করে পৌঁছে দিতে গিয়ে অনেকে ই গ্রেফতার হয়েছেন। পূর্ণমতি নোয়াপাড়ার বাসিন্দা হাবিব পিকআপ সহ গাঁজা নিয়ে গ্রেপ্তার হয়ে তিন বছর জেল খেটেছেন। ২০২০ সালে তৎকালীন বুড়িচং থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মোজাম্মেল হক পূর্ণমতি মনসুর আহমেদ উচ্চ বিদ্যালয়ের মাঠে আয়োজিত মাদকবিরোধী সমাবেশে স্থানীয় সংসদ সদস্য প্রয়াত আব্দুল মতিন খসরু এমপির উপস্থিতিতে বক্তব্যে হুশিয়ারী দিয়ে বলেছিলেন পূর্ণমতি ৪নং ওয়ার্ডে মেম্বার মাদক ব্যবসার সাথে জড়িত।তিনি বলেছিলেন মাদক কারবারি যেই হউক তার পরিচয় একটাই সে মাদক কারবারি। আমি অনুরোধ করব এই এই পথ ছেড়ে আসার জন্য। আমি কাউকে ছাড় দিব না। সে সময় এই বক্তব্যটি লাইভ চলায় মুহূর্তেই সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। এবং এলাকাবাসীর মধ্যে আলোচনা সমালোচনা শুরু হয়।
সচেতন মহলের দাবী আইন প্রয়োগকারী অভিযান পরিচালিত হলে মাদক বহনকারী গ্রেপ্তার হলেও মূল হোতারা থাকে ধরাছোঁয়ার বাহিরে। মাদক চোরাচালান ব্যবসা করলেও চলাফেরা বেশভূষা দেখে বুঝার উপায় নেই তাদের নেতৃত্বে এ সীমান্তে হচ্ছে বড় ধরনের চোরাচালানের ব্যবসা। তারা নিজেকে রাখে সব সময় ধরাছোঁয়ার বাইরে।সীমান্ত ও মহাসড়ক দিয়ে মাদক প্রবেশ ঠেকাতে কঠোর নজরদারি, গোয়েন্দা তৎপরতা বাড়ানো, যৌথ অভিযান জোরদার এবং জনসচেতনতা বৃদ্ধির ওপর গুরুত্ব দিচ্ছেন সচেতন নাগরিক ও সংশ্লিষ্টরা। তাদের আশা, সমন্বিত উদ্যোগই পারে পূর্ণমতি কে মাদকের ভয়াবহ বিস্তার থেকে রক্ষা করতে।তবে পুলিশ বলছে- মাদক কারবারিদের গ্রেপ্তারের অল্প সময়ের মধ্যেই অনেকে জামিনে বেরিয়ে আবারও একই অপরাধে জড়িয়ে পড়ায় কাঙ্ক্ষিত সুফল মিলছে না। এজন্য সমাজের সব শ্রেণি-পেশার মানুষের সহযোগিতা প্রয়োজন।