মোঃ আব্দুল কুদ্দুস হোসাইন
বিশেষ প্রতিনিধি রংপুর।
৩০ অক্টোবর, ২০২৬
রংপুর মহানগরের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ প্রবেশপথ ও ব্যস্ততম বাণিজ্যিক ও শিক্ষাকেন্দ্র মডার্ন মোড়ে প্রতিদিন হাজার হাজার যানবাহন এবং লাখো সাধারণ মানুষ যাতায়াত করলেও ফুটপাত দখল, সড়কের ওপর বাস দাঁড় করিয়ে যাত্রী ওঠানামা, অবৈধ অটোরিকশা-রিকশার জটলা এবং যত্রতত্র অস্থায়ী দোকানপাটের কারণে ক্রমেই ভয়াবহ রূপ নিচ্ছে যানজট ও জনদুর্ভোগ। সাধারণ যাত্রী, শিক্ষার্থী, শ্রমিক ও জরুরি রোগী বহনকারী অ্যাম্বুলেন্সের নিরবচ্ছিন্ন চলাচল আজ মারাত্মকভাবে বিঘ্নিত হচ্ছে এবং মডার্ন মোড়ের বিভিন্ন পয়েন্টে ফুটপাতজুড়ে কাঁচাবাজার, ফল, খাবার ও নানা ধরনের অস্থায়ী দোকানপাট গড়ে ওঠায় পথচারীরা ফুটপাত ব্যবহার করতে না পেরে বাধ্য হয়ে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে মূল সড়ক দিয়ে চলাচল করছেন, যার ফলে একদিকে যেমন দুর্ঘটনা বাড়ছে, অন্যদিকে বিঘ্নিত হচ্ছে যানবাহনের স্বাভাবিক গতি। শিশু, নারী, বয়স্ক ও অসুস্থ ব্যক্তিদের জন্য এই পরিস্থিতি চরম ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠেছে এবং এলাকাবাসীর মনে একটাই প্রশ্ন জেগেছে যে রংপুরের অন্যান্য এলাকায় যেখানে ফুটপাত ও অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ অভিযান পরিচালিত হচ্ছে, সেখানে মডার্ন মোড়ের ফুটপাত কেন বারবার দখলমুক্ত করা যাচ্ছে না এবং সিটি করপোরেশনের চোখের সামনে ফুটপাত দখল করে কারা লাভবান হচ্ছে, কোন অদৃশ্য শক্তির প্রভাবে এখানে উচ্ছেদ অভিযান থমকে যায়? যাত্রীদের সুবিধার্থে মোড়টিতে একটি যাত্রীছাউনি ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষার জন্য পুলিশ বক্স থাকলেও তার সুফল মিলছে না কারণ অভিযোগ রয়েছে যে যাত্রীছাউনি ও পুলিশ বক্সের ঠিক আশপাশেই রিকশা, অটোরিকশা এবং ইজিবাইকের চালকরা দীর্ঘ সময় ধরে জটলা তৈরি করে থাকেন, যার ফলে যাত্রীদের বসা ও নিরাপদ ওঠানামার সুযোগ সংকুচিত হয়ে পড়েছে এবং পুলিশ বক্সের নাকের ডগায় এমন বিশৃঙ্খলা চললেও কার্যকর ট্রাফিক তদারকি ও কঠোর পদক্ষেপের ঘাটতি নিয়ে জনমনে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। রংপুরে নির্ধারিত বাস টার্মিনাল থাকা সত্ত্বেও দূরপাল্লা ও লোকাল বাসগুলো টার্মিনাল ব্যবহার না করে মডার্ন মোড়েই দীর্ঘ সময় ধরে সড়ক আটকে যাত্রী ওঠানামা করায় ব্যস্ত সময়ে এই অনিয়মের কারণে সড়কে তীব্র যানজটের সৃষ্টি হয় যা অনেক সময় স্থবির করে দেয় পুরো এলাকাকে, এবং পাশাপাশি মডার্ন মোড়ে বাস দাঁড় করানোকে কেন্দ্র করে প্রতিটি বাস থেকে প্রতিদিন নির্দিষ্ট অঙ্কে (৫০০ থেকে ১,০০০ টাকা পর্যন্ত) চাঁদা আদায়ের গুরুতর অভিযোগ উঠেছে যেখানে স্থানীয়দের প্রশ্ন কারা, কার ইশারায় এবং কোন বৈধ ভিত্তিতে এই চাঁদাবাজি চালিয়ে যাচ্ছে এবং এই অনৈতিক অর্থ লেনদেন বন্ধে অবিলম্বে প্রশাসনের কঠোর তদন্ত ও হস্তক্ষেপ প্রয়োজন। মডার্ন মোড়ের আরেকটি ঐতিহাসিক ও সংবেদনশীল দিক হলো মহান মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতিবিজড়িত স্বাধীনতা স্মারক ‘অর্জন’ যা ১৯৯৮-৯৯ সালে নির্মিত হলেও এর বর্তমান দশা অত্যন্ত শোচনীয় কারণ চারপাশের প্রতিরক্ষামূলক গ্রিলের প্রাচীর ক্ষতিগ্রস্ত বা অপসারিত হওয়ায় এবং এর গায়ে যত্রতত্র পোস্টার, ব্যানার, হোর্ডিং ও আশপাশের দোকানের নানামুখী সাইনবোর্ডের কারণে এর সৌন্দর্য ও ঐতিহাসিক মর্যাদা আজ ম্লান হতে বসেছে এবং মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস ও ঐতিহ্য রক্ষার্থে এই স্থাপনাটির আশপাশ অবিলম্বে দখলমুক্ত ও সংস্কার করা জরুরি। রংপুর সিটি করপোরেশনের প্রশাসনের দৃষ্টি আকর্ষণ করে নগরবাসীর জোরালো দাবিগুলোর মধ্যে রয়েছে অবিলম্বে মডার্ন মোড়ের ফুটপাত ও সড়ক অবৈধ দখলমুক্ত করে পুনরায় যাতে দখল না হয় তার স্থায়ী নজরদারি নিশ্চিত করা, মহাসড়কে যত্রতত্র বাস থামানো ও যাত্রী ওঠানামা কঠোরহস্তে দমন করে নির্ধারিত বাস টার্মিনালের ব্যবহার বাধ্যতামূলক করা, মডার্ন মোড়ে বাস পার্কিংকে কেন্দ্র করে অননুমোদিত চাঁদা আদায়ের অভিযোগ দ্রুত তদন্ত করে জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া, পুলিশ বক্স ও যাত্রীছাউনির আশপাশের অবৈধ যানবাহনের জটলা হটিয়ে ট্রাফিক নিয়ন্ত্রণব্যবস্থাকে আরও গতিশীল করা এবং স্বাধীনতা স্মারক ‘অর্জন’-এর চারপাশ পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রেখে এর সৌন্দর্যবর্ধন ও ঐতিহাসিক মর্যাদা রক্ষা করা। মডার্ন মোড়ের এই বেহাল দশা থেকে উত্তরণে রংপুর সিটি করপোরেশন ও জেলা প্রশাসন যৌথভাবে দ্রুত ও দৃশ্যমান পদক্ষেপ নেবে—এটাই আজ সমগ্র রংপুরবাসীর প্রত্যাশা।