• বুধবার, ০৩ জুন ২০২৬, ০২:২৯ অপরাহ্ন
Headline
বালারহাটে বিষাক্ত মদ পানে আরও এক ব্যক্তির মৃত্যু, মৃতের সংখ্যা বেড়ে ৫ ‎ঈদযাত্রায় গৌরনদীতে পৃথক সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত ৩, আহত ২৩; চার লেনের দাবি জোরালো শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের ৪৫তম শাহাদাত বার্ষিকী উপলক্ষে আগৈলঝাড়ায় দোয়া ও আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত। শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের ৪৫তম শাহাদাত বার্ষিকী উপলক্ষে আগৈলঝাড়ায় দোয়া ও আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত। রংপুর কোতোয়ালি থানা ও ধাপ পুলিশ ফাঁড়ি পরিদর্শনে পুলিশ কমিশনার পটুয়াখালীতে ৫১ পিস ইয়াবাসহ মাদক কারবারি আটক ইতিহাস, ঐতিহ্য ও প্রত্নতত্ত্বের নগরী নরসিংদী নিয়ে নির্মিত বিনোদন মূলক ম্যাগাজিন “ইত্যাদি” প্রচারিত হবে ৫ জুন, শুক্রবার। জনগণ ঘুমিয়ে থাকার সময়ে তেলের দাম বাড়ানো হয়েছে : শফিকুর রহমান চাচাতো-খালাতো-মামাতো বোনকে বিয়ে করলে কী হয়, সতর্কবার্তা দিলেন গবেষকরা মিঠাপুকুরের বড়বালা ইউনিয়নে দিনব্যাপী গণসংযোগে এমপি অধ্যাপক গোলাম রব্বানী

ঈদ ও গ্রীষ্মকালীন ছুটিতে ৭দিন পাঠদান নির্দেশ, সমালোচনার মুখে চিঠি প্রত্যাহার

বেলায়েত হাওলাদার মাদারীপুর প্রতিনিধি / ৪২ Time View
Update : রবিবার, ১৭ মে, ২০২৬


বেলায়েত হাওলাদার মাদারীপুর প্রতিনিধি

সরকারি প্রজ্ঞাপনে প্রাথমিক বিদ্যালয়ে পবিত্র ঈদুল ফিতর ও গ্রীষ্মকালীন ছুটি মিলিয়ে ১৪ দিনের ছুটি ঘোষণা করা হলেও মাদারীপুরে দেখা গেছে ভিন্ন চিত্র। সরকারি ছুটির ১৪ দিনের পরিবর্তে ৭ দিন বিদ্যালয় খোলা রেখে পাঠদান চালুর নির্দেশনা দেয় জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিস। বিষয়টি নিয়ে জেলাজুড়ে শুরু হয় ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনা। পরে সমালোচনার মুখে সেই নির্দেশনা প্রত্যাহার করা হয়েছে।
জানা যায়, আগামী ২৪ মে থেকে ৪ জুন পর্যন্ত পবিত্র ঈদুল ফিতর ও গ্রীষ্মকালীন ছুটি ঘোষণা করে সরকার প্রজ্ঞাপন জারি করে। এর সঙ্গে শুক্র ও শনিবার মিলিয়ে মোট ১৪ দিনের ছুটি ভোগ করার কথা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক-কর্মচারীদের।
তবে ছুটি শুরুর আগেই গত ১৪ মে মাদারীপুর জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মুহাম্মদ ফজলে এলাহী স্বাক্ষরিত একটি চিঠি জেলার প্রতিটি উপজেলা শিক্ষা অফিসে পাঠানো হয়। চিঠিতে বলা হয়, সরকারি ছুটির মধ্যেও বিদ্যালয় খোলা রেখে দুর্বল শিক্ষার্থীদের জন্য ৭ দিন বিশেষ পাঠদানের ব্যবস্থা করতে হবে। পাশাপাশি সংশ্লিষ্ট বিদ্যালয় ও শিক্ষার্থীদের তালিকা তৈরি করে আগামী ১৮ মে জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসে পাঠানোর নির্দেশ দেওয়া হয়।
চিঠি প্রকাশের পরপরই শিক্ষক সমাজ ও অভিভাবকদের মধ্যে তীব্র প্রতিক্রিয়া দেখা দেয়। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকেও শুরু হয় সমালোচনার ঝড়। অনেকেই বিষয়টিকে শিক্ষকদের সরকারি ছুটিতে হস্তক্ষেপ এবং ব্যক্তিগত আক্রোশের বহিঃপ্রকাশ হিসেবে মন্তব্য করেন।
পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে উঠলে গত ১৫ মে, শুক্রবার বন্ধের দিন, জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা আরেকটি চিঠি জারি করে আগের নির্দেশনা বাতিল করেন। তবে এ ঘটনায় সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষকদের মধ্যে ক্ষোভ ও অসন্তোষ বিরাজ করছে।
সচেতন মহলের দাবি, জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তার স্বাক্ষরিত চিঠিতে একাধিক বানান ভুল ছিল, যা শিক্ষা প্রশাসনের দায়িত্বহীনতার পরিচয় বহন করে। তাদের মতে, কোনো জেলা শিক্ষা কর্মকর্তা শিক্ষকদের সরকারি ছুটি সীমিত করার ক্ষমতা রাখেন না। এটি শিক্ষকদের অধিকার ক্ষুণ্ন করার শামিল।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে একাধিক সহকারী শিক্ষক বলেন, “আমরা সরকারি নিয়মনীতি মেনে চলি। কিন্তু সরকারি ছুটির মধ্যে এভাবে বিদ্যালয়ে পাঠদানের নির্দেশনা দেওয়া মানসিক চাপ তৈরি করেছে। শিক্ষার্থী ও শিক্ষক—দু’পক্ষই যখন ছুটিতে থাকবে, তখন এমন সিদ্ধান্ত গ্রহণযোগ্য নয়।”
এ বিষয়ে মাদারীপুর জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মুহাম্মদ ফজলে এলাহী বলেন, “দুর্বল শিক্ষার্থীদের জন্য স্বেচ্ছাভিত্তিক বিশেষ পাঠদানের কথা বলা হয়েছিল। শিক্ষা অধিদপ্তরের নির্দেশনার আলোকে চিঠিটি দেওয়া হয়। তবে বিষয়টি নিয়ে বিতর্ক তৈরি হওয়ায় পরে সেই আদেশ প্রত্যাহার করা হয়েছে। শিক্ষকরা এটি ইতিবাচকভাবে নেবেন না, তা আগে বুঝতে পারিনি।”
মাদারীপুরের জেলা প্রশাসক মিস মর্জিনা আক্তার বলেন, “১৪ দিনের সরকারি ছুটির পরিবর্তে ৭ দিন ছুটি ভোগের নির্দেশনার বিষয়টি জেলা প্রশাসনের নজরে এসেছে। পরবর্তীতে জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিস আগের চিঠি বাতিল করেছে। কেন এমন ঘটনা ঘটেছে, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।”


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category