রংপুরে হিজড়া সম্প্রদায়ের দুই পক্ষের প্রকাশ্য বিরোধ, কাদা ছোড়াছুড়িতে বেরিয়ে আসছে চাঁদাবাজির অভিযোগ
আরিফুল ইসলাম রংপুর ব্যুরো
রংপুর নগরীতে হিজড়া সম্প্রদায়ের দুই গ্রুপের মধ্যে আধিপত্য বিস্তার ও চাঁদাবাজিকে কেন্দ্র করে প্রকাশ্য বিরোধ ও কাদা ছোড়াছুড়ির ঘটনা ঘটেছে। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে অনেক অপ্রকাশিত তথ্য সামনে আসতে শুরু করেছে বলে স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে।
জানা যায়, এক পক্ষের দাবি – নগরীতে জোরপূর্বক চাঁদাবাজি ও ভিক্ষাবৃত্তির নামে হয়রানি বন্ধ করতে হবে। তাদের অভিযোগ, একটি চক্র দীর্ঘদিন ধরে সাধারণ মানুষ ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের কাছ থেকে জোর করে টাকা আদায় করছে।
অপর পক্ষের পাল্টা দাবি, তাদেরকে দীর্ঘদিন ধরে শোষণ করা হচ্ছে। তাদের ভাষ্য অনুযায়ী – “স্বৈরাচার, অর্থলোভী ও শোষণকারীদের পতন হতে হবে” এবং প্রকৃত হিজড়াদের অধিকার ফিরিয়ে দিতে হবে।
এদিকে এই বিরোধের জেরে একটি গুরুতর অভিযোগ সামনে এসেছে। স্থানীয়দের অনেকের দাবি – *অনেক সুস্থ-সবল পুরুষ হিজড়া সেজে নগরীর বিভিন্ন এলাকায় চাঁদাবাজি করছে।*
ভুক্তভোগী একাধিক দোকানি ও পথচারী অভিযোগ করে বলেন, প্রকৃত হিজড়াদের আড়ালে কিছু ভুয়া ব্যক্তি এই পেশাকে ব্যবহার করে মানুষকে ভয়-ভীতি দেখিয়ে টাকা আদায় করছে, যা প্রকৃত হিজড়া সম্প্রদায়ের জন্যও সম্মানহানিকর।
এই পরিস্থিতিতে সচেতন মহলের দাবি, প্রকৃত হিজড়াদের অধিকার রক্ষা এবং ভুয়া চাঁদাবাজদের চিহ্নিত করতে *প্রশাসনের উদ্যোগে মেডিকেল টেস্ট ও পরিচয় যাচাই* করা প্রয়োজন। এর মাধ্যমে কে প্রকৃত হিজড়া এবং কে ছদ্মবেশে চাঁদাবাজি করছে তা স্পষ্ট হবে।
এ বিষয়ে রংপুর মেট্রোপলিটন পুলিশ এবং সমাজসেবা অধিদপ্তরের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছেন স্থানীয়রা। তারা চাঁদাবাজি বন্ধ করে প্রকৃত হিজড়াদের পুনর্বাসন ও কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করার দাবি জানান।