সৌদি আরবের বিরুদ্ধে মক্কার মতো পবিত্র নগরীকে ইয়েমেনে রাজনৈতিক ও সামরিক লক্ষ্য অর্জনের হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহারের অভিযোগ তুলেছেন।
মো লুৎফুর রহমান রাকিব
আন্তর্জাতিক প্রতিনিধি
প্রায় এক ঘণ্টার ভাষণে আল-হুথি বিভিন্ন বিষয়ে কথা বললেও তার বক্তব্যের বড় অংশজুড়ে ছিল সৌদি আরবের সমালোচনা। সৌদি আরব মক্কাকে লক্ষ্য করে হামলার অভিযোগ আনলেও আল-হুথি তা প্রত্যাখ্যান করে একে ‘মিথ্যা ও প্রতারণা’ বলে আখ্যায়িত করেন।
সৌদি আরব পবিত্র মক্কাকে হুথিদের ‘দমনের হাতিয়ার’ বা ‘নিপীড়নের প্রতীক’ হিসেবে ব্যবহার করছে বলে অভিযোগ করেন তিনি।
মুসলিম বিশ্বের প্রতি ইয়েমেনের সমর্থনে এগিয়ে আসার এবং সৌদি আরবের বিরুদ্ধে পবিত্র নগরী মক্কাকে রাজনৈতিক ও সামরিক উদ্দেশ্যে ব্যবহারের অভিযোগের নিন্দা জানানোর আহ্বান জানান তিনি।
আল-হুথি বলেন, চলমান সংঘাতের এটি ১২তম বছর এবং সৌদি আরবই ইয়েমেনের বিরুদ্ধে সামরিক অভিযান শুরু করেছিল। তার দাবি, আনসার আল্লাহ গোষ্ঠী মোখা দখল এবং পরবর্তীতে দক্ষিণ দিকে অগ্রসর হওয়ার আগে সানা আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে সৌদি সামরিক অভিযান চালিয়েছিল।
তার ভাষ্য অনুযায়ী, ওই ঘটনাই পরবর্তী ঘটনাপ্রবাহের সূচনা করে। এর ধারাবাহিকতায় আনসারুল্লাহ দক্ষিণ দিকে অগ্রসর হয়ে মোখা, ধাবাব এবং বাব আল-মান্দেব দখল করে।
আল-হুথির দাবি, সৌদি আরবের সামরিক পদক্ষেপের কারণে ইয়েমেন আত্মরক্ষামূলক অবস্থানে যেতে বাধ্য হয়েছে। তিনি বলেন, বর্তমানে যুদ্ধক্ষেত্রে আনসারুল্লাহর কর্মকাণ্ড এমন একটি দেশের বিরুদ্ধে প্রতিরক্ষামূলক পদক্ষেপ, যে ইয়েমেনকে নিপীড়ন ও অধীনস্থ করে রাখতে বদ্ধপরিকর।
এই হুথি নেতা আরো অভিযোগ করেন, যুক্তরাষ্ট্র ও ‘জায়নিস্টরা’ সৌদি আরবের হয়ে এই সামরিক প্রচেষ্টার নেতৃত্ব দিচ্ছে। তার দাবি, তারাই সৌদি আরবের ওপর রাজনৈতিক নীতি চাপিয়ে দিচ্ছে এবং দেশটিকে সামরিক পদক্ষেপ নিতে বাধ্য করছে।