৷ , সুজন আহমেদ স্টাফ রিপোর্টার হবিগঞ্জ, ,
*বাহুবল, হবিগঞ্জ: রশিদপুর ফিনলে চা বাগানের সঙ্গেস ভূমিমালিক রফিকুল ইসলামের ৪ বছরের সীমানা বিরোধে নতুন তথ্য উঠে এসেছে। প্রশাসনের একাধিক উদ্যোগের পরও ফিনলে কোম্পানি সমঝোতায় না আসায় জটিলতা আরও ঘনীভূত হচ্ছে।
*১. ইউএনও কার্যালয়ে প্রথম বৈঠক: কোম্পানি কাগজ দেখাতে ব্যর্থ*
ভুক্তভোগী সূত্রে জানা গেছে, বিরোধ নিষ্পত্তির প্রথম ধাপে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কার্যালয়ে উভয় পক্ষকে কাগজপত্রসহ ডাকা হয়। সেখানে রফিকুল ইসলাম তার জমির বৈধ দলিল, পর্চা, খাজনা রশিদসহ সব কাগজ উপস্থাপন করেন। অভিযোগ অনুযায়ী, ফিনলে কোম্পানি কর্তৃপক্ষ বিরোধপূর্ণ দাগে তাদের মালিকানার স্বপক্ষে কোনো কাগজপত্র দেখাতে পারেনি।
*২. সিদ্ধান্ত হলো সরেজমিন মাপজোখ*
ইউএনও কার্যালয়ের বৈঠকে কাগজ যাচাই শেষে সিদ্ধান্ত হয়, সরকারি সার্ভেয়ার দিয়ে সরেজমিন জমি মেপে সীমানা নির্ধারণ করা হবে। উভয় পক্ষকে সেদিন মাপজোখের সময় উপস্থিত থাকতে বলা হয়।
*৩. এডিসি-ইউএনও-সার্ভেয়ার মাঠে, কোম্পানি গরহাজির*
সিদ্ধান্ত মোতাবেক অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও সরকারি সার্ভেয়ার নির্ধারিত দিনে জমি মাপার জন্য ঘটনাস্থলে উপস্থিত হন। কিন্তু অভিযোগ উঠেছে, ফিনলে কোম্পানির কোনো প্রতিনিধি সেদিন মাপজোখে অংশ নেননি। প্রশাসনিক কর্মকর্তারা ঘটনাস্থলে গিয়ে অপেক্ষা করলেও কোম্পানির পক্ষ থেকে কেউ আসেননি।
*২২ জুনের ঘটনার পুনরাবৃত্তি*
এরই ধারাবাহিকতায় ২২ জুন ২০২৬ তারিখেও জেলা প্রশাসক, ইউএনও ও সরকারি আমিন সরেজমিনে গেলে কোম্পানির অনুপস্থিতির ঘটনা ঘটে। পরে ডিসি কার্যালয়ে ডাকা হলেও কোম্পানি কর্তৃপক্ষ হাজির হয়নি বলে ভুক্তভোগীর অভিযোগ।
*৫. ভুক্তভোগীর প্রশ্ন: কাগজ না থাকলে আপত্তি কেন?*
রফিকুল ইসলামের প্রশ্ন, “ইউএনও স্যারের সামনে তারা দাগের কাগজ দেখাতে পারেনি। মাপজোখের দিন এডিসি স্যার, ইউএনও স্যার, সার্ভেয়ার সবাই আসলেন, কিন্তু কোম্পানি আসলো না। যদি তাদের কাগজ থাকে, জমি তাদের হয়, তাহলে মাপতে ভয় কিসের? চার বছর ধরে শুধু হয়রানি করছে।”
*৬. আইনি লড়াই ও হুমকির অভিযোগ অব্যাহত*
ভুক্তভোগীর দাবি, কোম্পানি কর্তৃপক্ষ মামলা-হামলা ও শ্রমিকদের ব্যবহার করে পাল্টা মানববন্ধন করিয়ে তাকে চাপে রাখার চেষ্টা করছে। অথচ আদালতে আসামিরা বন্ড দিলেও পরিস্থিতির উন্নতি হয়নি।
*৭. কোম্পানির বক্তব্য এখনও মেলেনি*
এ বিষয়ে বক্তব্য জানতে ফিনলে চা কোম্পানির সিইও তাহসিন চৌধুরী, ডিজিএম আমজাদ চৌধুরী ও ওমর ফারুকের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাদের পক্ষ থেকে কোনো মন্তব্য পাওয়া যায়নি। বক্তব্য পাওয়া গেলে তা গুরুত্ব দিয়ে প্রকাশ করা হবে।
*প্রশাসনের পরবর্তী পদক্ষেপ কী?*
স্থানীয় সচেতন মহলের দাবি, যেহেতু ইউএনও কার্যালয়ে কোম্পানি কাগজ দেখাতে পারেনি এবং এডিসি-ইউএনও’র উপস্থিতিতে মাপজোখেও আসেনি, সেহেতু প্রশাসনের উচিত একতরফা সার্ভে করে সীমানা নির্ধারণ করে দেওয়া এবং হয়রানির অভিযোগ তদন্ত করে ব্যবস্থা নেওয়া।