এস এম নজরুল ইসলাম মফস্বল সম্পাদক গৌরা নদী বরিশাল
২০২৬: চীন সফরের শেষ মুহূর্তে এসে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রতিনিধি দল ও নিরাপত্তা টিমকে এক নজিরবিহীন পরিস্থিতির মুখোমুখি হতে হয়েছে। বেইজিং ছাড়ার প্রাক্কালে বিমানবন্দরে কড়া গোয়েন্দা ও নিরাপত্তা সতর্কতার কারণে চীন সরকারের দেওয়া কয়েকশত মূল্যবান কূটনৈতিক উপহার সামগ্রী ফেলে রেখেই আমেরিকার উদ্দেশ্যে রওনা দিতে হয়েছে ট্রাম্পের সফরসঙ্গীদের। বেইজিং আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের রানওয়েতে মার্কিন প্রেসিডেন্টকে বহনকারী ‘এয়ার ফোর্স ওয়ান’ বিমানের ঠিক সামনেই ট্রলি ও বড় পাত্রে স্তূপ করে রাখা উপহারগুলো ফেলে দেওয়ার একটি ছবি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে মুহূর্তেই ভাইরাল হয়ে পড়েছে।
কূটনৈতিক সূত্রে জানা গেছে, বেইজিংয়ে দ্বিপাক্ষিক বৈঠক ও রাষ্ট্রীয় সফর শেষে মার্কিন প্রতিনিধি দলটি যখন ওয়াশিংটনের উদ্দেশ্যে বিমানে ওঠার প্রস্তুতি নিচ্ছিল, ঠিক তখনই আমেরিকার গোয়েন্দা সংস্থা ও সিক্রেট সার্ভিসের পক্ষ থেকে একটি জরুরি নিরাপত্তা নির্দেশনা জারি করা হয়। সেই নির্দেশনায় স্পষ্ট উল্লেখ করা হয়— “চীন থেকে দেওয়া কোনো ধরনের উপহার বা সামগ্রী এই মুহূর্তে বিমানে তোলা যাবে না।” মূলত ইলেকট্রনিক নজরদারি, গোপন লিসেনিং ডিভাইস (বাগিং) এবং সাইবার নিরাপত্তার চরম ঝুঁকি এড়াতেই শেষ মুহূর্তে মার্কিন গোয়েন্দারা এই কঠোর অবস্থান নেন।
ফেলে দেওয়া উপহারগুলোর মধ্যে নান্দনিক লাল রঙের বক্স, বিশেষ সম্মাননা স্মারক, চীনা ঐতিহ্যবাহী ড্রাগন খচিত ক্রেস্ট এবং বিভিন্ন স্মারক মেডেল দেখা গেছে। মার্কিন নিরাপত্তা প্রটোকল অনুযায়ী, যেকোনো বিদেশী রাষ্ট্র, বিশেষ করে সাইবার ও ভূ-রাজনৈতিক প্রতিদ্বন্দ্বী দেশগুলোর দেওয়া উপহার সামগ্রী কঠোর বৈজ্ঞানিক ল্যাব পরীক্ষার মধ্য দিয়ে যেতে হয়। তবে এবার উপহারের সংখ্যা ও বৈচিত্র্য অনেক বেশি হওয়ায় এবং বেইজিংয়ে অবস্থানকালীন সময়েই নিরাপত্তা ঝুঁকি আঁচ করতে পেরে কোনো ঝুঁকি না নিয়ে সরাসরি রানওয়েতেই সেগুলো হস্তান্তরের সিদ্ধান্ত নেয় মার্কিন সিক্রেট সার্ভিস।
এই নাটকীয় ঘটনাটি নিয়ে ইতিমধ্যেই আন্তর্জাতিক কূটনীতি ও রাজনৈতিক মহলে ব্যাপক গুঞ্জন শুরু হয়েছে। মার্কিন প্রশাসনের পক্ষ থেকে বিষয়টিকে ‘নিয়মিত নিরাপত্তা প্রটোকল’ হিসেবে বর্ণনা করা হলেও, অনেক বিশেষজ্ঞ মনে করছেন এটি বেইজিং ও ওয়াশিংটনের মধ্যকার চলমান প্রযুক্তি যুদ্ধ ও পারস্পরিক গভীর অবিশ্বাসেরই বহিঃপ্রকাশ। এই ঘটনার পর চীনা পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে তাৎক্ষণিক কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।