কে এম. ইয়ামিন আহমেদ | মহিপুর থানা প্রতিনিধি
সূর্যোদয় ও সূর্যাস্তের অপরূপ লীলাভূমি সাগরকন্যা কুয়াকাটায় আগত দেশী-বিদেশী পর্যটকদের ভ্রমণকে নিরাপদ, স্বাচ্ছন্দ্যময় ও আনন্দদায়ক করতে সৈকত জুড়ে কঠোর নিরাপত্তা বলয় তৈরি করেছে ট্যুরিস্ট পুলিশ। কুয়াকাটা রিজিয়নের পুলিশ সুপারের সুনির্দিষ্ট দিকনির্দেশনা ও বিশেষ পরিকল্পনায় গতকাল বৃহস্পতিবার (২৮ মে, ২০২৬) থেকে সৈকতের মূল পয়েন্টসহ দূরবর্তী স্পটগুলোতে ট্যুরিস্ট পুলিশের বিশেষ টিম দিনরাত নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছে।
ট্যুরিস্ট পুলিশ কুয়াকাটা জোন সূত্রে জানা গেছে, শুধু কুয়াকাটার মূল জিরো পয়েন্টই নয়, বরং পর্যটকদের অন্যতম পছন্দের আকর্ষণীয় ও ঝুঁকিপূর্ণ স্পট হিসেবে পরিচিত গঙ্গামতি সৈকত, কাউয়ারচর এবং লেবুর বন এলাকায় সার্বক্ষণিক ও নিশ্ছিদ্র নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হচ্ছে। কুয়াকাটার নৈসর্গিক সৌন্দর্য উপভোগ করতে আসা সাধারণ মানুষ যাতে কোনো ধরণের বিশৃঙ্খলা বা হয়রানির শিকার না হন, সেজন্য এই বিশেষ আভিযানিক পরিকল্পনা হাতে নেওয়া হয়েছে।
নিরাপত্তা জোরদারকরণের অংশ হিসেবে কুয়াকাটা সৈকতের বিস্তীর্ণ এলাকাজুড়ে ট্যুরিস্ট পুলিশের পক্ষ থেকে নিয়মিত ‘মোবাইল টহল’ (গাড়ি ও মোটরবাইক পেট্রোলিং) এবং ‘ফুট প্যাট্রোল’ (পায়ে হেঁটে টহল) জোরদার করা হয়েছে। কোনো অসাধু চক্র বা অপরাধী যেন পর্যটকদের জানমালের ক্ষতি করতে না পারে এবং সৈকতে এসে কেউ যাতে কোনো ইভটিজিং বা আর্থিক হয়রানির শিকার না হন, সেজন্য ট্যুরিস্ট পুলিশ সার্বক্ষণিক ছায়াতদন্ত ও নজরদারি ব্যবস্থা চালু রেখেছে। এছাড়াও সৈকতে আগতদের হারিয়ে যাওয়া মূল্যবান মালামাল দ্রুত উদ্ধার এবং যেকোনো জরুরি প্রয়োজনে তাৎক্ষণিক মানবিক সহায়তা প্রদান করা হচ্ছে।
ট্যুরিস্ট পুলিশের কুয়াকাটা রিজিয়নের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা জানান, সন্দেহজনক যেকোনো ধরনের কার্যকলাপ প্রতিরোধে তাদের বিশেষ টিম ও সাদা পোশাকে গোয়েন্দা নজরদারি সক্রিয় রয়েছে। পর্যটকেরা যেন সম্পূর্ণ নিশ্চিন্তে ও নির্ভয়ে কুয়াকাটার অপরূপ সৌন্দর্য উপভোগ করতে পারেন, সেই লক্ষ্যেই সেবা নিরাপত্তা ও সহায়তা এই তিন মূলমন্ত্রকে বুকে ধারণ করে ট্যুরিস্ট পুলিশ সবসময় সাধারণ মানুষের পাশে রয়েছে।