• বুধবার, ০৩ জুন ২০২৬, ০৩:৩৯ অপরাহ্ন
Headline
বালারহাটে বিষাক্ত মদ পানে আরও এক ব্যক্তির মৃত্যু, মৃতের সংখ্যা বেড়ে ৫ ‎ঈদযাত্রায় গৌরনদীতে পৃথক সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত ৩, আহত ২৩; চার লেনের দাবি জোরালো শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের ৪৫তম শাহাদাত বার্ষিকী উপলক্ষে আগৈলঝাড়ায় দোয়া ও আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত। শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের ৪৫তম শাহাদাত বার্ষিকী উপলক্ষে আগৈলঝাড়ায় দোয়া ও আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত। রংপুর কোতোয়ালি থানা ও ধাপ পুলিশ ফাঁড়ি পরিদর্শনে পুলিশ কমিশনার পটুয়াখালীতে ৫১ পিস ইয়াবাসহ মাদক কারবারি আটক ইতিহাস, ঐতিহ্য ও প্রত্নতত্ত্বের নগরী নরসিংদী নিয়ে নির্মিত বিনোদন মূলক ম্যাগাজিন “ইত্যাদি” প্রচারিত হবে ৫ জুন, শুক্রবার। জনগণ ঘুমিয়ে থাকার সময়ে তেলের দাম বাড়ানো হয়েছে : শফিকুর রহমান চাচাতো-খালাতো-মামাতো বোনকে বিয়ে করলে কী হয়, সতর্কবার্তা দিলেন গবেষকরা মিঠাপুকুরের বড়বালা ইউনিয়নে দিনব্যাপী গণসংযোগে এমপি অধ্যাপক গোলাম রব্বানী

‎ঈদযাত্রায় গৌরনদীতে পৃথক সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত ৩, আহত ২৩; চার লেনের দাবি জোরালো

এস এম নজরুল ইসলাম মফস্বল সম্পাদক বরিশাল / ২৯ Time View
Update : মঙ্গলবার, ২ জুন, ২০২৬

এস এম নজরুল ইসলাম মফস্বল সম্পাদক বরিশাল

‎আসন্ন ঈদুল আযহাকে কেন্দ্র করে ঘরমুখো মানুষের চাপ বৃদ্ধি পাওয়ায় ঢাকা-বরিশাল-কুয়াকাটা মহাসড়কে যানবাহনের সংখ্যা কয়েকগুণ বেড়েছে। এরই মধ্যে বরিশালের গৌরনদী উপজেলার ভুরঘাটা থেকে বাটাজোড় পর্যন্ত মহাসড়কের বিভিন্ন স্থানে ধারাবাহিক সড়ক দুর্ঘটনায় প্রাণহানি ও আহতের ঘটনা উদ্বেগজনকভাবে বেড়েছে। স্থানীয়দের মতে, সড়কের তুলনায় অতিরিক্ত যানবাহন চলাচল, বেপরোয়া গতি, অদক্ষ চালক এবং দীর্ঘদিন ধরে মহাসড়কটি চার লেনে উন্নীত না হওয়াই দুর্ঘটনার অন্যতম কারণ।

‎গত কয়েকদিনে গৌরনদী উপজেলার দক্ষিণ পালরদী, মদিনা স্ট্যান্ড, বার্থী বাসস্ট্যান্ড, আশোকাঠী ও বাটাজোড় এলাকায় অন্তত পাঁচটি পৃথক দুর্ঘটনায় একই পরিবারের তিন সদস্য নিহত এবং ২৩ জন আহত হয়েছেন।

‎ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স, গৌরনদী স্টেশন সূত্রে জানা যায়, দক্ষিণ পালরদীতে মাইক্রোবাস ও কাভার্ডভ্যানের মুখোমুখি সংঘর্ষে একই পরিবারের পাঁচজন আহত হন। একই এলাকায় পরে অজ্ঞাত একটি পরিবহনের চাপায় এক মোটরসাইকেল চালক গুরুতর আহত হন।

‎মদিনা স্ট্যান্ড এলাকায় অজ্ঞাত একটি যানবাহনের ধাক্কায় জসিম মৃধা নামে এক মোটরসাইকেল আরোহী আহত হন। বার্থী বাসস্ট্যান্ডে “দশমিনা এক্সপ্রেস” নামের একটি যাত্রীবাহী বাসের সঙ্গে ইজিবাইকের সংঘর্ষে তিনজন আহত হন।

‎অপরদিকে আশোকাঠী এলাকায় চাঁদনী ট্রাভেলসের একটি বাস ও পিকআপ ভ্যানের সংঘর্ষে নারী ও শিশুসহ ১৪ জন আহত হন। এছাড়া বাটাজোড় এলাকায় তাজ পরিবহনের একটি বাসের ধাক্কায় মোটরসাইকেলে থাকা একই পরিবারের তিন সদস্য—ফিরোজ মাহমুদ, তার স্ত্রী মনিরা বেগম এবং শিশু কন্যা জান্নাত নিহত হন। এ ঘটনায় স্থানীয় বিক্ষুব্ধ জনতা দুর্ঘটনাকবলিত বাসে ভাঙচুর চালায়।

‎দুর্ঘটনাগুলোর পর গৌরনদী ফায়ার সার্ভিসের একাধিক ইউনিট দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে উদ্ধার অভিযান পরিচালনা করে আহতদের গৌরনদী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে পাঠায়।

‎স্থানীয়দের অভিযোগ, পদ্মা সেতু চালুর পর দক্ষিণাঞ্চলের মানুষের জন্য ঢাকা-বরিশাল-কুয়াকাটা মহাসড়কই দেশের অন্যতম ব্যস্ত সড়কে পরিণত হয়েছে। কিন্তু যানবাহনের চাপ বাড়লেও সড়কের অবকাঠামোগত উন্নয়ন সেই হারে হয়নি।

‎গৌরনদীর বাসিন্দা ও ঢাকার ব্যবসায়ী আসাদুজ্জামান টুটুল তালুকদার বলেন, বর্তমানে দেশের সবচেয়ে ঝুঁকিপূর্ণ মহাসড়কগুলোর মধ্যে ঢাকা-বরিশাল-কুয়াকাটা মহাসড়কের গৌরনদী অংশ অন্যতম। মহাসড়কে যতগুলো স্থানে সড়ক দুর্ঘটনা বেশি ঘটছে, তার মধ্যে শীর্ষে রয়েছে গৌরনদী উপজেলা। এই সড়ক দিয়ে যাতায়াত করার সময় গাড়িতে উঠলেই মনে আতঙ্ক কাজ করে—কখন যে দুর্ঘটনার কবলে পড়তে হয়। মানুষের জীবন ও অর্থনীতির স্বার্থে অতিসত্বর এ মহাসড়ককে চার লেনে উন্নীত করা প্রয়োজন।

‎নিয়মিত এ সড়কে যাতায়াতকারী মো. বাপ্পি বলেন, চাকরির কারণে ঢাকায় থাকি। প্রতি সপ্তাহেই গৌরনদীতে আসা-যাওয়া করতে হয়। পদ্মা সেতু চালুর পর এই মহাসড়কে যানবাহনের চাপ অনেক বেড়েছে। কিন্তু সেই তুলনায় রাস্তা প্রশস্ত করা হয়নি। সড়কের ধারণক্ষমতার চেয়ে বেশি যান চলাচল করায় প্রায় প্রতিদিনই কোথাও না কোথাও দুর্ঘটনা ঘটছে।

‎পিকআপ মো. সরোয়ার হোসেন খান বলেন, এই মহাসড়কে প্রতিদিন অসংখ্য বাস, ট্রাক ও বিভিন্ন ধরনের যানবাহন চলাচল করে। কিন্তু সড়কের ধারণক্ষমতা এত যানবাহন বহনের উপযোগী নয়। বিশেষ করে বড় পরিবহনগুলো অনেক সময় বেপরোয়া গতিতে চলে। আমরা ছোট গাড়ির চালকরা সবসময় ঝুঁকির মধ্যে থাকি। প্রায়ই দুর্ঘটনার মুখোমুখি হতে হয়। মানুষের প্রাণহানি রোধে দ্রুত চার লেনের সড়ক নির্মাণ জরুরি।

‎সংশ্লিষ্ট সূত্র বলছে, ঢাকা থেকে পায়রা সমুদ্রবন্দর, কুয়াকাটা পর্যটন কেন্দ্র এবং দক্ষিণাঞ্চলের ২১ জেলার সঙ্গে যোগাযোগের প্রধান সড়ক হওয়ায় এই মহাসড়কের গুরুত্ব দিন দিন বৃদ্ধি পাচ্ছে। কিন্তু দীর্ঘদিন ধরে চার লেন প্রকল্প বাস্তবায়ন না হওয়ায় দুর্ঘটনার ঝুঁকি বাড়ছে।

‎স্থানীয় জনপ্রতিনিধি, পরিবহন সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি ও সাধারণ মানুষ মনে করেন, শুধু ট্রাফিক আইন প্রয়োগ নয়, ঢাকা-বরিশাল-কুয়াকাটা মহাসড়ককে দ্রুত চার লেনে উন্নীত করাই হতে পারে দুর্ঘটনা কমানোর সবচেয়ে কার্যকর ও দীর্ঘমেয়াদি সমাধান। অন্যথায় ঈদসহ বিভিন্ন উৎসব মৌসুমে যানবাহনের অতিরিক্ত চাপের কারণে প্রাণহানি ও দুর্ঘটনার সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করছেন তারা।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category