রফিকুল ইসলাম
(নাইক্ষ্যংছড়ি) প্রতিনিধিঃ
বান্দরবানের নাইক্ষ্যংছড়ি উপজেলার বাইশারীতে চাঞ্চল্যকর ব্যবসায়ী আজিজ খলিফা (৫৩) অপহরণ ও হত্যা মামলার প্রধান এজাহারভুক্ত আসামি এবং মূল পরিকল্পনাকারী ইসকন সদস্য উদয়ন ধরকে (৪০) গ্রেফতার করেছে র্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র্যাব)।
চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ড উপজেলার চন্দ্রনাথ পাহাড়ের গহীন জঙ্গল থেকে যৌথ অভিযানে তাকে গ্রেফতার করা হয়।
র্যাব সূত্র জানায়, সোমবার রাত ১০টা ১০ মিনিটে র্যাব-১৫, কক্সবাজার এবং র্যাব-৭, চট্টগ্রাম (সিপিসি-৩) এর একটি যৌথ আভিযানিক দল গোপন সংবাদের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে আত্মগোপনে থাকা ইসকন সদস্য খুনি উদয়ন ধরকে আটক করে। পরে প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদ শেষে তাকে আইনি প্রক্রিয়ার জন্য নাইক্ষ্যংছড়ি থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে।
মামলার বিবরণে জানা যায়, গত ২০ মে দুপুরে পাওনা ৬ লাখ টাকা আদায়ের উদ্দেশ্যে বাইশারী বাজারে ইসকন সদস্য উদয়ন ধরের কাপড়ের দোকানে যান ব্যবসায়ী আজিজ খলিফা। সেখানে টাকা পরিশোধ না করে কৌশলে তাকে কক্সবাজারের একটি হাসপাতালে চিকিৎসার জন্য পাঠানো হয়। পরে পূর্বপরিকল্পিতভাবে ওৎ পেতে থাকা কয়েকজন দুর্বৃত্ত তাকে জোরপূর্বক একটি গাড়িতে তুলে নিয়ে যায়।
অপহরণের পর ইসকন সদস্য খুনি উদয়ন ধর থেকে ৬ লক্ষ টাকা দাবী না করার জন্য খালি স্ট্যাম্পে স্বাক্ষর আদায়ের উদ্দেশ্যে তার ওপর নির্মম শারীরিক নির্যাতন চালানো হয় বলে অভিযোগ রয়েছে। নির্যাতনের মধ্যেও তিনি কৌশলে নিজের ইমো অ্যাকাউন্ট থেকে এক সাক্ষীর মোবাইলে একটি ভয়েস মেসেজ পাঠাতে সক্ষম হন। ভয়েসে ইসকন সদস্য খুনি উদয়ন ধরকে দায়ী করা হয়।
সেদিন রাত সাড়ে ৮টার দিকে কক্সবাজারের ঈদগাহ এলাকার রেললাইনের পাশ থেকে স্থানীয়রা তাকে হাত-পা বাঁধা ও রক্তাক্ত অবস্থায় উদ্ধার করে। প্রথমে ঈদগাহ মডেল হাসপাতাল এবং পরে কক্সবাজার সদর হাসপাতালে নেওয়া হলেও অবস্থার অবনতি হলে তাকে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়। পরদিন আইসিইউ বেড না পাওয়ায় চট্টগ্রামের একটি বেসরকারি হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।
তবে চিকিৎসার ব্যয়ভার বহনে অসামর্থ্যের কারণে ২২ মে তাকে বাড়িতে ফিরিয়ে নেওয়া হয়। পরদিন ২৩ মে সকাল ১০ টায় চিকিৎসাধীন অবস্থায় নিজ বাড়িতে মারা যান আজিজ খলিফা।
এ ঘটনায় ২৫ মে নিহতের দ্বিতীয় স্ত্রী সেলিনা আকতার বেবী বাদী হয়ে নাইক্ষ্যংছড়ি থানায় হত্যা মামলা দায়ের করেন। মামলায় অপহরণ, অবৈধ আটক, গুরুতর আঘাত, হত্যা এবং প্রাণনাশের হুমকির অভিযোগ আনা হয়। মামলা দায়েরের পর থেকেই প্রধান আসামি ইসকন সদস্য উদয়ন ধর সহ তার সহযোগিরা আত্মগোপনে চলে যান।
র্যাব-১৫ এর এক কর্মকর্তা জানান, “ঘটনার পর থেকেই র্যাব ছায়া তদন্ত শুরু করে। তথ্যপ্রযুক্তি ও গোয়েন্দা নজরদারির মাধ্যমে নিশ্চিত হওয়া যায় যে, মামলার মূলহোতা ইসকন সদস্য খুনি উদয়ন ধর সীতাকুণ্ডের চন্দ্রনাথ পাহাড়ের দুর্গম এলাকায় আত্মগোপনে রয়েছেন। পরে যৌথ অভিযানে তাকে গ্রেফতার করা হয়।”
এদিকে আজিজ খলিফা হত্যাকাণ্ডকে কেন্দ্র করে গত কয়েক সপ্তাহ ধরে নাইক্ষ্যংছড়ির বাইশারী এলাকায় বিক্ষোভ, মানববন্ধন ও প্রতিবাদ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়। স্থানীয় বাসিন্দারা ঘটনার সঙ্গে জড়িত সকল আসামির দ্রুত গ্রেফতার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়ে আসছিলেন।
নাইক্ষ্যংছড়ি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মোজাম্মেল হক বলেন, “র্যাব কর্তৃক গ্রেফতারকৃত প্রধান আসামী ইসকন সদস্য উদয়ন ধরকে থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে। তাকে আদালতে সোপর্দ করা হবে। হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত অন্যান্য আসামিদের গ্রেফতারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।”
স্থানীয় সচেতন মহলের দাবি, বহুল আলোচিত এই হত্যাকাণ্ডের সুষ্ঠু তদন্ত নিশ্চিত করে জড়িতদের দ্রুত বিচারের আওতায় আনা হলে আইনের প্রতি সাধারণ মানুষের আস্থা আরও সুদৃঢ় হবে।
সংবাদ প্রেরক ঃ রফিকুল ইসলাম, নাইক্ষ্যংছড়ি, প্রতিনিধি।