হবিগঞ্জ প্রতিনিধি:সুজন আহমেদ স্টাফ রিপোর্টার।
হবিগঞ্জ জেলার মিরপুর ইউনিয়নে গতকাল রাতে৫.জুন অনুষ্ঠিত হয়েছে ঐতিহ্যবাহী বিশাল কারবালা জারীগান অনুষ্ঠান। মুহররমের পবিত্র পরিবেশে হাজারো ভক্ত-শ্রোতার উপস্থিতিতে এই অনুষ্ঠানটি পরিণত হয়েছিল এক অসাধারণ আধ্যাত্মিক ও সাংস্কৃতিক মিলনমেলায়। কারবালার মর্মান্তিক ঘটনা, ইমাম হুসাইন (রা.)-এর শাহাদাত এবং তাঁর পরিবারের অসীম ত্যাগের কাহিনি জারীগানের মাধ্যমে উপস্থাপিত হয়ে শ্রোতাদের চোখে জল এনেছে।
অনুষ্ঠানের বিস্তারিত বর্ণনা
সন্ধ্যা থেকে শুরু হয়ে গভীর রাত পর্যন্ত চলা এই জারীগান অনুষ্ঠানে স্থানীয় ও জেলার বিখ্যাত জারী শিল্পীরা অংশগ্রহণ করেন। মিরপুরের খোলা মাঠে বিশাল মঞ্চ সাজানো হয়েছিল ফুল, আলোকসজ্জা ও কালো পতাকায়। হাজারো মানুষ—নারী, পুরুষ, শিশু-কিশোর—একত্রিত হয়ে মন্ত্রমুগ্ধের মতো শুনেছেন কারবালার বেদনাবিধুর কাহিনি।
প্রধান জারী শিল্পীদের মধ্যে ছিলেন হবিগঞ্জের গুণী শিল্পী শায়ের মিজান ক্বাদরি, সুমন দেওয়ান, মিল্লাত মিয়াসহ অনেকে। তাঁদের কণ্ঠে উঠে এসেছে “দশই মহররমের চাঁন”, “ইমামও দাঁড়াইলা হায়রে”, “বিলাপ করিয়া কান্দইন” এর মতো হৃদয়স্পর্শী জারী গান। প্রতিটি গানের সঙ্গে দোহারদের সম্মিলিত কণ্ঠ এবং ঐতিহ্যবাহী বাদ্যযন্ত্রের সুর মিলে এক অপূর্ব পরিবেশ সৃষ্টি হয়। শ্রোতারা “হায় হুসাইন”, “লাব্বাইক ইয়া হুসাইন” বলে সাড়া দিয়ে গানের সঙ্গে একাত্ম হয়ে পড়েন।16d582
একজন স্থানীয় বয়স্ক ভক্ত জানান, “প্রতি বছর মিরপুরে এই জারীগান হয়। কিন্তু এবারের আয়োজন ছিল একেবারে বিশাল। কারবালার ঘটনা শুনে চোখের পানি ধরে রাখা যায়নি। এই গান আমাদের ইমানকে আরও মজবুত করে।”
আয়োজকদের বক্তব্য
অনুষ্ঠানের আয়োজক কমিটির সভাপতি বলেন, “জারীগান আমাদের সিলেট-হবিগঞ্জ অঞ্চলের গৌরবময় ঐতিহ্য। এর মাধ্যমে আমরা কারবালার শিক্ষা—ন্যায়, ত্যাগ ও সত্যের পথে অটল থাকার বার্তা ছড়িয়ে দিতে চাই। মিরপুরের মানুষের উৎসাহে আমরা অনুপ্রাণিত। আগামীতে আরও বড় পরিসরে এটি আয়োজন করব।”
অনুষ্ঠানে স্থানীয় ধর্মীয় ব্যক্তিত্বরা কারবালার ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট তুলে ধরেন এবং জারীগানের মাধ্যমে মুসলিম উম্মাহর ঐক্যের আহ্বান জানান।
সাংস্কৃতিক তাৎপর্য
জারীগান বাংলার লোকসংস্কৃতির এক অমূল্য সম্পদ। এটি শুধু গান নয়, কারবালার ইতিহাসকে জীবন্ত করে তোলার শক্তিশালী মাধ্যম। হবিগঞ্জের মতো অঞ্চলে এই ঐতিহ্য শত শত বছর ধরে চলে আসছে এবং নতুন প্রজন্মকে আকৃষ্ট করছে। এবারের অনুষ্ঠানে যুবক-যুবতীদের উপস্থিতি ছিল চোখে পড়ার মতো।
এই বিশাল আয়োজনে কোনো অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটেনি। স্থানীয় প্রশাসন ও পুলিশের সহযোগিতায় শান্তিপূর্ণভাবে অনুষ্ঠান সম্পন্ন হয়েছে।
হবিগঞ্জের মিরপুরের এই জারীগান উৎসব আবারও প্রমাণ করল যে, সংস্কৃতি ও ধর্মীয় ঐতিহ্য মানুষকে কতটা নিবিড়ভাবে এক করে রাখতে পারে। আগামী বছরের জন্য অপেক্ষায় রইল আরও বর্ণাঢ্য আয়োজন।
ইয়া হুসাইন (রা.) — শান্তি ও ত্যাগের বার্তা ছড়িয়ে দিক সবার মনে।
যদি আরও বিস্তারিত তথ্য বা ছবি/ভিডিও চান, জানাবেন। এই প্রতিবেদনটি ঐতিহ্যবাহী জারীগানের আবেগ ও সৌন্দর্য তুলে ধরার চেষ্টা করা হয়েছে।