মোঃ জিয়াউর রহমান
মফস্বল সম্পাদক রংপুর
রংপুরের শঠিবাড়ি এলাকায় নির্মিত ওভারপাসকে কেন্দ্র করে জননিরাপত্তা, সড়ক দুর্ঘটনা এবং ব্যবসা-বাণিজ্যের ওপর প্রভাব নিয়ে স্থানীয়দের মধ্যে উদ্বেগ ক্রমেই বাড়ছে। এলাকাবাসীর দাবি, গুরুত্বপূর্ণ বন্দর এলাকায় ফ্লাইওভার নির্মাণের পরিবর্তে ওভারপাস নির্মাণ করায় দীর্ঘদিন ধরে নানা সমস্যার সৃষ্টি হয়েছে।
স্থানীয়দের মতে, শঠিবাড়ি একটি ব্যস্ত বাণিজ্যিক কেন্দ্র হওয়ায় এখানে ফ্লাইওভার নির্মাণই অধিক যৌক্তিক হতো। কিন্তু ওভারপাসটি এমন একটি স্থানে নির্মাণ করা হয়েছে, যেখানে মানুষের চলাচল তুলনামূলকভাবে কম। ফলে অধিকাংশ পথচারী প্রয়োজনীয় গন্তব্যে পৌঁছাতে অতিরিক্ত পথ ঘুরে যেতে অনাগ্রহী হয়ে ঝুঁকি নিয়ে সরাসরি সড়ক পারাপারের চেষ্টা করেন।
এ কারণে এলাকাটিতে প্রায়ই দুর্ঘটনা ঘটছে এবং প্রাণহানির ঘটনাও ঘটেছে বলে স্থানীয়রা অভিযোগ করেছেন। তাদের দাবি, ওভারপাসের অবস্থান নির্ধারণে অতীতের কিছু অদূরদর্শী সিদ্ধান্তের নেতিবাচক প্রভাব এখন সাধারণ মানুষকে ভোগ করতে হচ্ছে।
এ অবস্থায় দুর্ঘটনা কমাতে শঠিবাড়িতে একটি ফুট ওভারব্রিজ নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, আগামী ১৫ দিনের মধ্যে নির্মাণকাজ শুরু করার পরিকল্পনা রয়েছে।
তবে স্থানীয়দের একটি অংশ মনে করছেন, শুধুমাত্র ফুট ওভারব্রিজ নির্মাণ করলেই সমস্যার পূর্ণ সমাধান হবে না। বিশেষ করে বয়স্ক মানুষদের অনেকেই সিঁড়ি ব্যবহার করে ওভারব্রিজ পার হতে অনাগ্রহী হতে পারেন। ফলে তারা ঝুঁকিপূর্ণভাবে সড়ক পারাপারের চেষ্টা অব্যাহত রাখতে পারেন।
স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও সচেতন মহল দীর্ঘমেয়াদে শঠিবাড়িতে ফ্লাইওভার নির্মাণের দাবি জানিয়েছেন। তাদের মতে, পলাশবাড়ী ও গোবিন্দগঞ্জের মতো গুরুত্বপূর্ণ স্থানে যেভাবে ফ্লাইওভার নির্মাণ করা হয়েছে, শঠিবাড়িতেও তেমন একটি প্রকল্প বাস্তবায়ন হলে স্থায়ী সমাধান পাওয়া সম্ভব।
এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আলোচনা হয়েছে বলে জানা গেছে। স্থানীয় পর্যায়ের নেতৃবৃন্দ জানিয়েছেন, বিষয়টি সরকারের উচ্চপর্যায়ে অবহিত করা হয়েছে এবং পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণের জন্য একটি বিশেষজ্ঞ দল পাঠানোর আশ্বাস পাওয়া গেছে।
এদিকে সোমবার ফুট ওভারব্রিজ নির্মাণের সম্ভাব্যতা যাচাইয়ে একটি সার্ভে কার্যক্রম পরিচালিত হয়। এতে উপস্থিত ছিলেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা, মাওলানা এনামুল হক, আসাদুজ্জামান শিমুল এবং স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ।
স্থানীয়রা আশা প্রকাশ করেছেন, জননিরাপত্তার বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করে দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে, যাতে ভবিষ্যতে সড়ক দুর্ঘটনা ও প্রাণহানি উল্লেখযোগ্যভাবে কমিয়ে আনা সম্ভব হয়।